পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/২৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় স্তরের কষি আমরা এত দূর পর্য্যস্ত সোজা পথে, সুবিধামত চলিয়া আসিতেছিলাম ; কিন্তু এখন হইতে ঘোরতর গোলযোগ । মহাভারত সমুদ্রবিশেষ, কিন্তু এতক্ষণ আমরা, তাহার স্থির বারিরাশি মধ্যে মধুর মৃত্যুগম্ভীর শব্দ শুনিতে শুনিতে মুখে নীেষাত্রা করিতেছিলাম। এক্ষণে সহসা আমরা ঘোরবাভ্যায় পড়িয়া, তরঙ্গাভিঘাতে পুনঃ পুনঃ উৎক্ষিপ্ত নিক্ষিপ্ত হইব । কেন না, এখন আমরা বিশেষ প্রকারে মহাভারতের দ্বিতীয় স্তরের কবির হাতে পড়িলাম। তাহার হস্তে কৃষ্ণচরিত্র সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হইয়াছে। যাহ। উদার ছিল, তাহা এক্ষণে ক্ষুদ্র ও সঙ্কীর্ণ হইয়া পড়িতেছে ; যাহ। সরল তাহা এক্ষণে কৌশলময় । যাহা সত্যময় ছিল, তাহা এক্ষণে অসত্য ও প্রবঞ্চনার আকর ; যাহা স্যায়, ও ধৰ্ম্মের অনুমোদিত ছিল, তাহ এক্ষণে অস্তায় ও অধৰ্ম্মে কলুষিত। দ্বিতীয় স্তরের কবির হাতে কৃষ্ণচরিত্র এইরূপ বিকার প্রাপ্ত হইয়াছে । কিন্তু কেন ইহা হইল ? দ্বিতীয় স্তরের কবি নিতান্ত ক্ষুদ্র কবি নহেন ; তাহার স্থষ্টিকৌশল জাজ্বল্যমান । তিনি ধৰ্ম্মাধৰ্ম্মজ্ঞানশুন্য নহেন । তবে তিনি কৃষ্ণের এরূপ দশা ঘটাইয়াছেন কেন ? তাহার অতি নিগূঢ় তাৎপৰ্য্য দেখা যায়। প্রথমতঃ আমরা পুনঃ পুনঃ দেখিয়াছি ও দেখিব যে, কৃষ্ণ প্রথম স্তরের কবির হাতে ঈশ্বরবিতার বলিয়। পরিস্ফুট নহেন । তিনি নিজে ত সে কথা মুখেও আনেন না ; পুনঃ পুনঃ আপনার মানবী প্রকৃতিই প্রবাদিত ও পরিচিত করেন ; এবং মানুষী শক্তি অবলম্বন করিয়া কাৰ্য্য করেন । কবিও প্রায় সেই ভাবেই তাহাকে স্থাপিত করিয়াছেন । প্রথম স্তরে এমন সন্দেহও হয় যে, যখন ইহা প্রণীত হইয়াছিল তখন হয়ত কৃষ্ণ ঈশ্বরাবতার বলিয়া সৰ্ব্বজনস্বীকৃত নহেন। তাহার নিজের মনেও সে ভাব সকল সময়ে বিরাজমান নহে। স্থূল কথা মহাভারতের প্রথম স্তর কতকগুলি প্রাচীন কিম্বদন্তীর সংগ্রহ মাত্র এবং কাব্যালঙ্কারে কবিকর্তৃক রঞ্জিত ; এক আখ্যায়িকার সূত্রে যথাযথ সন্নিবেশপ্রাপ্ত । কিন্তু