পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ύν क्रूझबैिछ মহাভারতের ঐতিহাসিকত, বা মহাভারতে কথিত কৃষ্ণপাগুবসম্বন্ধীয় বৃত্তাস্তের ঐতিহাসিকতা সম্বন্ধে ইউরোপীয়গণের যে প্রতিকূল ভাব, তাহার মূলে এই কথা আছে যে, প্রাচীনকালে মহাভারত ছিল বটে, কিন্তু সে এ মহাভারত নহে। ইহার অর্থ যদি এমন বুঝিতে হয় যে, প্রচলিত মহাভারতে সেই প্রাচীন মহাভারতের কিছুই নাই, তাহ হইলে আমরা তাহাদের কথা যথার্থ বলিয়া স্বীকার করি না ; এবং এরূপ স্বীকার করি না বলিয়াই, তাহাদের কথার এত প্রতিবাদ করিয়াছি। আর র্তাহীদের কথার মৰ্ম্মার্থ যদি এই হয় যে, সে প্রাচীন মহাভারতের উপর অনেক প্রক্ষিপ্ত উপন্যাসাদি চাপান হইয়াছে, প্রাচীন মহাভারত তাহার ভিতর ডুবিয়া আছে, তবে তাহাদের সঙ্গে আমার কোন মতভেদ নাই । আমরা পুনঃপুনঃ বলিয়াছি যে, পরবর্তী প্রক্ষিপ্তকারদিগের রচনাবাহুল্যে আদিম মহাভারত প্রোথিত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু ঐতিহাসিকতা যদি কিছু থাকে, তবে সে আদিম মহাভারতের । অতএব বর্তমান মহাভারতের কোন অংশ আদিমমহাভারতভুক্ত, তাহাই প্রথমে আমাদের বিচাৰ্য্য বিষয় । তাহাতে কৃষ্ণকথা যাহা কিছু পাওয়া যায়, তাহারই কিছু ঐতিহাসিক মূল্য থাকিলে থাকিতে পারে। তাঁহাতে যাহা নাই, অন্য গ্রন্থে থাকিলেও, তাহার ঐতিহাসিক মূল্য অপেক্ষাকৃত অল্প। কেন না, মহাভারতই সৰ্ব্বাপেক্ষা প্রাচীন গ্রন্থ । প্রাচীন সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকেই বলিবেন, মহাভারতের কোন অংশই যে প্রক্ষিপ্ত, তাহারই বা প্রমাণ কি ? এই পরিচ্ছেদে তাহার কিছু প্রমাণ দিব । আদিপর্বের্বর দ্বিতীয় অধ্যায়ের নাম পৰ্ব্বসংগ্রহীধ্যায়। মহাভারতে যে যে বিষয় বর্ণিত বা বিবৃত আছে, ঐ পৰ্ব্বসংগ্রহtধ্যায়ে তাহার গণনা করা হইয়াছে। উহা এখনকার গ্রন্থের সূচিপত্র বা Table of content৪ সদৃশ। অতি ক্ষুদ্র বিষয়ও ঐ পৰ্ব্বসংগ্রহীধ্যায়ের গণনাভুক্ত হইয়াছে। এখন যদি দেখা যায় যে, কোন একটা গুরুতর বিষয় ঐ পৰ্ব্বসংগ্রহাধ্যায়ভুক্ত নহে, তবে অবশ্ব বিবেচনা করিতে হইবে যে, উহ। প্রক্ষিপ্ত। একটা উদাহরণ দিতেছি। আশ্বমেধিক পর্বে অমুগীত ও ব্রাহ্মণগীত পৰ্ব্বাধ্যায় পাওয়া যায়। এই দুইটি ক্ষুদ্র বিষয় নয়, ইহাতে ছত্রিশ অধ্যায় গিয়াছে। কিন্তু পৰ্ব্বসংগ্রহীধ্যায়ে উহার কিছু উল্লেখ নাই, সুতরাং বিবেচনা করিতে হইবে যে, অনুগীত ও ব্রাহ্মণগীত সমস্তই প্রক্ষিপ্ত ।