পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম খণ্ড" একাদশ পরিচ্ছেদ : নিৰ্ব্বাচনের ফল st শ্রেণীর লক্ষণবিশিষ্ট অংশই প্রাথমিক, বা আদিম ; এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর লক্ষণযুক্ত অংশগুলি পরে রচিত হইয়া, তাহার উপর প্রক্ষিপ্ত হইয়াছে, এরূপ বিবেচনা করা যাইতে পারে। কেন ন, প্রথম কথিত অংশ উঠাইয়া লইলে, মহাভারত থাকে না ; যাহ থাকে, তাহ কঙ্কালবিচ্যুতমাংসপিণ্ডের হ্যায় বন্ধনশূন্ত এবং প্রয়োজনশূন্ত নিরর্থক বলিয়া বোধ হয়; কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণীর লক্ষণবিশিষ্ট যাহা, তাহ উঠাইয়া লইলে, মহাভারতের কিছু ক্ষতি হয় না, কেবল কতকগুলি নিম্প্রয়োজনীয় অলঙ্কার বাদ যায় ; পাণ্ডবদিগের জীবনবৃত্ত অখণ্ড থাকে। অতএব প্রথম শ্রেণীর লক্ষণবিশিষ্ট অংশগুলিকে আমি প্রথম স্তর, এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর লক্ষণবিশিষ্ট রচনাগুলিকে দ্বিতীয় স্তর বিবেচনা করি। প্রথম স্তরে, ও দ্বিতীয় স্তরে, আর একটা গুরুতর প্রভেদ এই দেখিব যে, প্রথম স্তরে কৃষ্ণ ঈশ্বরাবতার বা বিষ্ণুর অবতার বলিয়৷ সচরাচর পরিচিত নহেন ; নিজে তিনি আপনার দেবত্ব স্বীকার করেন না ; এবং মানুষী ভিন্ন দৈবী শক্তি দ্বারা কোন কৰ্ম্ম সম্পন্ন করেন না। কিন্তু দ্বিতীয় স্তরে, তিনি স্পষ্টতঃ বিষ্ণুর অবতার বা নারায়ণ বলিয়া পরিচিত এবং অচিত ; নিজেও নিজের ঈশ্বরত্ব ঘোষিত করেন ; কবিও তাহার ঈশ্বরত্ব প্রতিপন্ন করিবার জন্য বিশেষ প্রকারে যত্নশীল । ইহা ভিন্ন মহাভারতে আরও এক স্তর আছে। তাহাকে তৃতীয় স্তর বলিয়েছি। তৃতীয় স্তর অনেক শতাব্দী ধরিয়া গঠিত হইয়াছে। যে যাহা যখন রচিয়া “বেশ রচিয়াছি” মনে করিয়াছে, সে তাহাই মহাভারতে পুরিয়া দিয়াছে। মহাভারত পঞ্চম বেদ। এ কথার একটি গুঢ় তাৎপৰ্য্য আছে। চারি বেদে শূদ্র এবং স্ত্রীলোকের অধিকার নাই, কিন্তু Mass Education লইয়। তর্কবিতর্ক আজ নূতন ইংরেজের আমলে হইতেছে না। অসাধারণ প্রতিভাশালী ভারতবর্ষের প্রাচীন ঋষির বিলক্ষণ বুঝিয়াছিলেন যে, বিদ্যা ও জ্ঞানে স্ত্রীলোকের ও ইতর লোকের, উচ্চ শ্রেণীর সঙ্গে সমান অধিকার । র্তাহারা বুঝিয়াছিলেন যে, আপামর সাধারণ সকলেরই শিক্ষা ব্যতীত সমাজের উন্নতি নাই। কিন্তু তাহারা আধুনিক হিন্দুদিগের মত প্রতিভাশালী পূৰ্ব্বপুরুষদিগকে অবজ্ঞা করিতেন না । তাহার। “অতীতের সহিত বর্তমানের বিচ্ছেদকে” বড় ভয় করিতেন। পুৰ্ব্বপুরুষের বলিয়া গিয়াছেন যে, বেদে শূদ্র ও স্ত্রীলোকের অধিকার নাই—ভাল, সে কথা বজায় রাখা যাউক । র্তাহারা ভাবিলেন, যদি এমন কিছু উপায় করা যায় যে, বাহ শিখিবার, তাহা স্ত্রীলোকে ও শূত্রে বেদ অধ্যয়ন না করিয়াও এক স্থানে পাইবে, তবে সে কথা বজায় রাখিয়া চলা যায়। বরং যাহা সৰ্ব্বজনমনোবে, এমন সামগ্রীর সঙ্গে যুক্ত হইয়া সৰ্ব্বলোকের নিকট সে শিক্ষা বড় আদরণীয় হইবে। তিন স্তরে সম্পূর্ণ যে মহাভারত এখন আমরা পড়ি,