পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২য় ছুরা, ৪র্থ রুকু ] আদমের বাক্য প্রাপ্ত , , که با অর্থাৎ—“কোন নগরে গমন কর!” এই সমস্ত তফছিরকারেরাও এখানে হবুত শব্দের অর্থ —গমন করা চলিয়া যাওয়া বলিয়া একবাক্যে গ্রহণ করিয়াছেন। ৪৮ আদম কোন বাক্য প্রাপ্ত হইয়াছিলেন ? পদস্খলনের পর আদম ও হাউওয়া নিম্নলিখিত ভাষায় অনুতাপ করিয়াছিলেন – ربذا ظلمنا انفسنا فان 2 تغفرلنا و ترحمنا لانکارنان من الخاسرین - اعراف ۲۳ - অর্থাৎ—“হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করিয়াছি ! এখন তুমি যদি আমাদিগকে ক্ষমা নাকর,—তুমি যদি আমাদিগের উপর দয়া না কর—তাহা হইলে আমাদিগের সর্বনাশ সুনিশ্চিত " (চুরা আ'রাফ, ২৩ ) । . মানুষের পদস্খলন হয় বাসনার মোহে মত্ত হইয়া—আর এই মানুষের মনে এই মোহের অধিকার জমিস্থা যায়—পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বকে বিস্তুত হইয়া। অপরাধ স্বীকার ও আন্তরিক অন্ততাপে এই মহাপাতকের প্রায়শ্চিত্ত হইয়া যায়। আদম ও ইবলিছ উভয়ই অপরাধে লিপ্ত হইয়াছিল। একজন অপরাধ স্বীকার করিয়া লঙ্গিত ও অন্ততপ্ত চিত্তে সেই অপরাধের জন্য আল্লার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতে লাগিলেন, আর একজন—অভূতপ্ত হওয়াত দূরে থাকুক—সেই অপরাধকে নিজের গৰ্ব্ব ও গৌরবের কথা বলিয়া মনে কৰিতে লাগিল। এই দুই বিপরীত কাৰ্য্য-কারণ-পরম্পর উপরের আয়তগুলিতে পরিস্ফুট হইয়া উঠিয়াছে। আদম ও ইবলিছের উপাখ্যানে ইহাই মূল শিক্ষণীয় বিষয়। আদম ও হাউওয়ার উপাখ্যান উপলক্ষে এক শ্রেণীর আরবী পুস্তকে যে সকল হান্ত আজগৈবী বাজে গল্প স্থান প্রাপ্ত হইয়াছে—তাহা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনু পৌরাণিক কাহিনী ব্যতীত আর কিছুই নহে,—ঐ গল্পগুজবগুলির কোন সম্বন্ধ এছলামের সহিত নাই। এছলামের শিক্ষা অনুসারে ঐ শ্রেণীর ভিত্তিহীন গল্পগুজবের প্রচার করাও হারাম।