পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কোরআন শরীফ প্রথম পারা نفوذ সঙ্গত হইতে পারে না । ( ( 2 ) লোহিত সাগরের লোনা জলে এই প্রকার নল-খাগড়া জন্মায় “ন-জন্মান সম্ভবপরও নহে। (৩) পক্ষান্তরে বানি-এছরাইলের অবস্থান স্থল গোশেন অঞ্চলের সহিত মিলিত তিমসাহ হ্রদ ঐ প্রকার reed বা নল-খাগড়ায় পরিপূর্ণ। মানচিত্র অতুসন্ধান করিলে পাঠকগণ জানিতে পরিবেন যে, এই ‘তিমসাহ হ্রদ, সুয়েজ বা লোহিত সাগরের শেষ প্রান্ত হইতেও অন্ততঃ ৬০ মাইল উত্তরে অবস্থিত । এই নল-খাগড়া হ্রদ বা Reed Lakeকে Red Sea বা লোহিত সাগরে পরিণত করাতেই আসল গণ্ডগোলের স্বষ্টি _হইয়াছে। বানি-এছরাইলগণ এই Yam Suph—নল-খাগড়া হ্রদ অর্থাৎ 'তিমসাহ’ হ্রদের সংলগ্ন গোশেন অঞ্চলে বাস করিত । সেখান হইতে পলায়নের সময় এই হ্রদের কোন বেলা বা তৎসংলগ্ন কোন marsh বা জলাভূমি—তাহারা পার হইয়া গিয়াছিল—মূল বাইবেললেখকেরও উদ্দেশ্য তাঁহাই। পরবত্তী অনুবাদকদের হাতে পড়িয়া সেই নল-খাগড়াপূর্ণ इल' বিশাল লোহিত সাগরে পরিণত হইয়া গিয়াছে ! চতুর্থ প্রশ্নের বিচার – সাধারণতঃ মনে করা হইয়া থাকে যে, ভূমধ্য সাগরের দক্ষিণ তীর হইতে সুয়েজ প্রণালীর উত্তর সীমা পৰ্য্যন্ত বিস্তৃত স্থানটা একটা শুষ্ক জলশূন্ত ভূভাগ। এই সম্পূর্ণ ভূভাগ ব্যাপিয়া সুয়েজ খাল খনন করিয়া লোহিত সাগরকে ভূমধ্য সাগরের সহিত সংযোজিত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু বস্তুতঃ ইহা অপ্রকৃত ধারণা। এই দুই সাগরের মধ্যস্থিত ভূভাগট বহু ক্ষুদ্র বৃহৎ হ্রদমালা, বেলাভূমি ও জলাভূমিতে পরিপূর্ণ ছিল এবং এখনও আছে। অবশু খাল কাটার জন্য অপ্রশস্ত জলাভূমিগুলি শুকাইয়া যাওয়াই স্বাভাবিক। মানচিত্রের উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলে পাঠকগণ এই জলাশয়গুলির অবস্থা জানিতে পরিবেন । বস্তুতঃ এইজন্য বহু স্থানে খাল খনন করার মোটেই দরকার হয় নাই, অথবা কেবল বালি ও কাদা সরাইয়া কাজ শেষ করা হইয়াছিল । ভূমধ্য সাগর ও লোহিত সাগরের মধ্যস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই হৃদগুলিতে ও তৎসংলগ্ন জলাভূমিগুলিতে একই সময় দুই দিক হইতে প্রবল বেগে জোয়ারের জল প্রবেশ করে, এবং সেগুলিকে প্লাবিত ও উদ্বেলিত করিয়া ফেলে। এই সময় হ্রদের উপকুলে ও জলাভূমির মধ্যে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত উচ্চ ভূমিগুলিও জোয়ারের পানিতে ডুবিয়া যায়। পক্ষান্তরে ভাটার সময় দুই দিক হইতে পানি সরিতে আরম্ভ হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে জোয়ারের পানি বাহির । হইয়া যায় এবং ঐ উপকুল ও অপেক্ষাকৃত উচ্চ স্থানগুলি চড়া বা চরের মত জাগিয়া উঠে । সাধারণ প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে শুরু ও কৃষ্ণ পক্ষের নবমী-দশমী হইতে দ্বাদশী-ত্রয়োদশী পৰ্য্যন্ত জোয়ারের বেগ অত্যন্ত প্রবল হয় এবং এই সময় জলের পরিমাণও অতিশয় বৃদ্ধি পাইয়া থাকে। পক্ষান্তরে এই একাদশী-দ্বাদশী বা ত্রয়োদশী তিথিতেই জোয়ারের সাগরজলে ধান--Bore—ডাকিয়া তৎসংলগ্ন নদী, হ্রদ ও বেলাভূমির দিকে প্রব বেগে ছুটিয়া যাইতে