পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏ8 • কোরআন শরীফ [ প্রথম পারা 鲇 অমাত্যবর্গের মনে কি কোর্য ত্রাস ও আশঙ্কার উদ্রেক হয় নাই ? হজরত মূছ যে কোন অলৌকিক শক্তি বলে এই অঘটন সংঘটনে সমর্থ হইয়াছেন, এই সব ব্যাপার দেখিয়া অতি নিরেট মূর্ধও এ কথা বুঝিতে পারিত। ফের্সাওনের অমাতারা ইহা কি একটুও বুঝিতে পারেন নাই ? এই স্থলে জিজ্ঞাস্ত এই যে, এ সমস্ত দেখিয়া শুনিয়াও ফেবৃঅাওন স্ববংশে নিধন প্রাপ্ত হওয়ার জন্য সেই অন্ধু প্রাচীর ও অন্ধু পৰ্ব্বত বেষ্টিত কবর গহবরে প্রবেশ করিতে গেল কেন ? এরূপ কথা ত পাগলেও কল্পনা করিতে পারে না । কিংবদন্তি-সঙ্কলকেরা যে এই প্রশ্নটার বিষয় ভাবিয়া দেখেন নাই, এমন নহে। সেই জন্য তাল ঠিক রাখার জন্য র্তাহারা আর একটা অদ্ভুততর গল্প রচনা করিয়া লইতে বাধ্য হইয়াছেন। র্তাহারা বলিতেছেন –এই সমস্ত ব্যাপার দেখিয়া ফেব্ৰুতাওন যাহার পর নাই তীত হইয়া পড়িয়াছিল, সাগর পথে প্রবেশ করার ইচ্ছা তাহার আদৌ ছিল না। সে জন্য সে নিজের সমস্ত লোক লশকরকে লইয়া থমকিয়া দাড়াইয়া যায় । কিন্তু হইলে কি হয়, আল্লার ইচ্ছা ছিল—ফেৰুআওনকে ডুবাইয়া মারার। তাই অগত্যা তিনি জিরাইল ফেরেশতাকে এক মেয়ে ঘোড়ার পিঠে ছওয়ার করিয়া ফেব্ৰঅাওনের লশকরের সম্মুখে পাঠাইয়া দিলেন । জিব্রাইল ঐ মেয়ে ঘোড়ার পিঠে ছওয়ার হইয়া সমুদ্রপথের দিকে অগ্রসর হইতে লাগিলেন। বলিতে ভুলিয়াছি—ফেবৃঅাওনের দশ লাখ সৈন্তের সমস্ত ঘোড়াই ছিল মন্দা !—একটী মেয়ে ঘোড়া সম্মুখে দেখিয়া এই দশ লাখ মদ ঘোড়া কাম-উন্মত্ত হইয়া তাহার পশ্চাতে ছুটিয়া সাগর পথে প্রবেশ করিল। ফেব্‌আওনের লশকর তাহীদের ঘোড়াগুলিকে কোন মতেই রুকিতে পারিল না (ঘোড়ার পিঠ হইতে নামিয়া পড়িতেও পারিল না!) কাজেই সকলে ডুবিয়া হালাক হইয়া গেল ! মুছলমানের চরম দুর্ভাগ্য না হইলে এই শ্রেণীর গাজাখুরি গল্পগুজব কোআনের তফছিরে কখনই স্থান লাভ করিতে পারিত না। আমরা জিজ্ঞাসা করি, এই সকল ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সমস্থ এই গল্প-রচকেরা কি লোহিত সাগরের উপকূলে দাড়াইয়া তামাশা দেখিতেছিলেন, না স্বয়ং জেরাইল ফেরেশতা আসিয়া তাহাদিগকে এই সব বেওয়ারা বলিয়া গিয়াছেন ? এই সমস্ত উপাখ্যান তাহারা অবগত হইয়াছেন—কোন স্থত্রে ? ফলে, আল্লার কেতাবের সহিত ঐ সমস্ত গল্পগুজবের কোন সম্বন্ধ নাই, কোআন বরং উহার প্রতিবাদই করিতেছে। ৬৩ গো-পূজা ঃ– আল্লার আদেশ অনুযায়ী হজরত মূছ চল্লিশ দিবা রজনী দূরে নিভৃত পৰ্ব্বত গুহায় সাধনায় তন্ময় হইয়া অবস্থান করিয়াছিলেন। এই সময় তিনি হজরত হারুনকে এহুদীদিগের তত্ত্বাবধানের পর দিয় যান। মিসরীয়দিগের মধ্যে তখন গো-পূজার প্রথা খুবই প্রচলিত ছিল। লৰি শত বৎসর প্যন্ত অধীনতার জীবন অতিবাহন করা সাধারণ নিৰ্মাহুসারে প্রভুজাতির