পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২য় চুরা, ৮ম রুকু ] গো-কোরবানী ురిపి মানসিকতা অনুসারে “গো-হত্যা” ছিল তাহদের প্রধান পরীক্ষ। পক্ষান্তরে কোনীর গরুর যে সব লক্ষণ তাওরাতে ও কোআনে বর্ণিত হইয়াছে, তাহার প্রতি লক্ষ্য করিলে সহজে জানা যাইবে যে, গো-পূজক জাতিরা এই শ্রেণীর সুদৰ্শন ও নির্দোৰ গল্পগুলিকেই পূজার জন্য নির্বাচন করিয়া থাকে। আলোচ্য আয়তগুলিতে এই প্রকারের কোন ঘটনা প্রসঙ্গে কোন একটী গাভী কোবানী করার আদেশ দেওয়া হইয়াছে। গো-ভক্ত এহুদীদের এই আদেশ পালন করার ইচ্ছা আদে ছিল না। সেই জন্য কোন প্রকার ন্যায়ের ফাকি বাহির করিয়া তাহার “গো-হত্যার” পরীক্ষা হইতে রক্ষা পাইতে চাহিয়াছিল। ইহাই ছিল তাঁহাদের এই সকল অনাবস্ত্যক প্রশ্নের কারণ । ৬৭ হইতে ৭১ আস্থত পৰ্য্যন্ত আর একটা স্বতন্ত্র ঘটনার বিবরণ দেওয়া হইয়াছে, সেই জন্য একমাত্র ৬৭ আয়তের প্রারম্ভে ১ ) বলা হইয়াছে। ৭২ অস্থিত হইতে আবার একটা স্বতন্ত্র ও নূতন ঘটনার বর্ণনা আরম্ভ হইছে, সেজন্য সেখানে আবার নূতন করিয়া ১l, “এবং ( স্মরণ করিয়া দেখ) যখন” পদ ব্যবহার করা হইয়াছে। মদিনার এহুদীরা কোআনের ও হজরত মোহাম্মদ মোস্তফার শিক্ষার প্রতি চরম দৃষ্টতা ও অবাধ্যতা প্রকাশ করিয়াছিল। তাহারা বলিত যে “মোহাম্মদ আল্লার নবী”—ইহার কোন প্রমাণ তাওরাতে নাই। আমরাই হইতেছি তাহার বাহক—সুতরাং তাওরাতের কোন আদেশ নির্দেশ অমান্ত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নহে—অর্থাৎ মোহাম্মদের কথা তাওরাতের থাকিলে আমরা নিশ্চয়ই তাহ মান্ত করিতাম। মদিনায় অবতীর্ণ এই সব আয়ুতে এহুদীদিগের এই অন্যান্থ দাবীর উত্তরে তাহদের জাতির ধারাবাহিক শাস্ত্রদ্রোহিতার কতকগুলি উদাহরণ দিয়া প্রতিপন্ন করা হইতেছে যে, তাওরাতকে তাহারা কস্মিনকালেও মান্ত করে নাই। সুতরাং হজরতের কথা তাওরাতে থাকা না থাকার তর্ক উত্থাপন করার কোন অধিকারই তাহীদের নাই।