পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՏԳ- . কোরআন শরীফ [ প্রথম পারা মোবাহালার চ্যালেঞ্জ’ দেওয়া হইয়াছে। ছুর আলে-এস্রানের ৬০ আয়তে খৃষ্টানদিগের প্রতি এই প্রকার আহবানের কথা জানা যাইতেছে। নিজেদের মানসিক দুর্বলতার জন্য এহুদীরা এছলামের এই চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করিতে পরিবে না—একথাও সঙ্গে সঙ্গে বলিয়া দেওয়া হইয়াছে। হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা আল্লাহকে এমন দৃঢ় ও প্রত্যক্ষরূপে প্রাপ্ত হুইয়াছিলেন এবং আত্ম সত্যে র্তাহার এমনই গাঢ়, গভীর ও অটুট বিশ্বাস ছিল যে, দুনাকে এ চ্যালেঞ্জ’ দিতে তিনি একটুও কুষ্ঠিত হন নাই । কোবৃঅানের বিচারে স্বৰ্গ বা মুক্তি লাভ কোন বিশেষ জাতির অথবা বিশেষ ধৰ্ম্মাবলম্বীর এক চেটিয়া অধিকার নহে। এ জন্য এছলাম, ঈমান ও আমল অর্থাৎ বিশ্বাস ও কৰ্ম্মের এবং জ্ঞান ও ভক্তির সংমিশ্রণে যে সাধন মার্গ নিৰ্দ্ধারণ করিয়া দিয়াছে, সকল জাতি ও সকল ধৰ্ম্মের লোক তাহাকে অবলম্বন করিয়া মুক্তি লাভ করিতে পারে। পক্ষান্তরে, সেই মার্গকে পরিত্যাগ করিলে মুছলমান-নামধারী ব্যক্তিরাও মুক্তি লাভের অধিকার হইতে বঞ্চিত হইয়। ষায় । ( ৮২ টীকা দেখ ) । ৯৫ আয়ুতে বৰ্ণিত ‘সহস্ৰ বৎসর অর্থে বহু বৎসর, দীর্ঘ কাল । (কবির)। এহুদীরা পৌত্তলিকদিগের অপেক্ষাও পার্থিব জীবনের জন্য অধিক লালায়িত— এই তুলনার তাৎপৰ্য্য এই যে, আরবের পৌত্তলিকগণ পরকালের ও মৃত্যুর পর কৰ্ম্মফল ভোগের কথা স্বীকার করিত না । তাহারা মনে করিত যে, এই পার্থিব জীবনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঘথা সৰ্ব্বস্ব শেষ হইয়া যায়, ইহার পরকার আনন্দ ধামের কথা তাহারা আদৌ বিশ্বাস করিত না । তাই এই জীবনের প্রতি তাহদের অত্যন্ত মায়া এবং মৃত্যুর নামে তাহীদের মনে অশেষ বিভীষিকা জাগিয়া উঠিত। সুতরাং পার্থিব জীবনের আকাঙ্খা তাহীদের অত্যন্ত অধিক হওয়াই স্বাভাবিক । কিন্তু পক্ষাস্তরে এহুদীরা মুখে বলিত যে, আমরা পরকালের অনন্ত আনন্দ পামে বিশ্বাস করি, এবং তাহার অধিকারী একমাত্র আমরা। পার্থিব জীবন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেই আনন্দ ধামে প্রবেশ করিব।” স্বতরাং এই দাবী সত্য হইলে পার্থিব জীবনের প্রতি তাহদের আদৌ কোন মায়া হওয়া উচিত ছিল না। এই সকল আয়তে দেখান হইতেছে যে, “আমরা নিজেদের শাস্ত্র মান্ত করি”—এহুদীদিগের এ দাবীও মিথ্যা । * তাহার। বস্তুতঃ নিজেদের শাস্ত্রকেও মান্ত করে না। তাহারা মানিয়! চলে—নিজেদের স্বাধ ও সংস্কারকে, এবং এই স্বাধ ও সংস্কারের খাতিরেই তাহারা হজরতকে ও কোআনকে অমান্ত করিতেছে।