পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২য় ছুরা, ১৪শ রুকু ] আল্লার মছজিদ , SGNG তাহাদের প্রত্যেক সম্প্রদায়ই অন্য সম্প্রদায়কে কাফের বলিয়া থাকে, অথচ কোআনকে আল্লার সত্য সনাতন বাণী বলিয়া সকলে সমবেত ভাবে পাঠ করিয়া থাকে ৷ ” ( X--W»br o ) | ১০৫ আল্লার মছজিদ ঃ– মছজিদ অর্থে ছেজদা করার বা সাষ্টাঙ্গ প্রণত হওয়ার স্থান। যে স্থানে মানুষ আল্লার হুজুরে নিজের দেহ ও মনের ছেজদ নিবেদন করে, তাহাই আল্লার মছজিদ । এই স্থান- । গুলিতে আল্লার ভজন হইবে, ইহাতেই তাহার সার্থকতা । কিন্তু দুনায় চিরকালই এরূপ এক এক দল সঙ্কীর্ণমনা মানুষ বিরাজ করিয়া আসিয়াছে, যাহারা নিজেদের মিথ্যা ধাৰ্ম্মিকতার দাম্ভিকতায় অন্ধ হইয়া অন্ত লোকদিগকে অtল্লার মছজিদে র্তাহার জেকের বা ভজন করিতে দেয় না। তাহারা মনে করে, এইরূপে মছজিদের সম্মান রক্ষণ করা হয় । ইহা ভুল, কোরআন বলিয়া দিতেছে—ইহাই হইতেছে প্রকৃত পক্ষে মছজিদকে ভিরান করার ও উৎসন্ন দেওয়ার চেষ্টা । হজরতকেও মক্কার মোশ রেকগণ—কাবায়ু আল্লার এবাদত 'করিতে দেয় নাই। কিন্তু হজরত মদিনগর মছজিদে খৃষ্টানদিগকে তাহীদের ধৰ্ম্ম বিশ্বাস অনুসারে এবাদত করার অল্পমতি দিয়াছিলেন। বড়ই পরিতাপের বিষয়, আজ কাল এ দেশের মুছলমানদিগের মধ্যেও এই জঘন্য গোড়ামীর রোগ প্রবল ভাবে সংক্রামক হইয়া পড়িয়াছে । অন্ত ধৰ্ম্মাবলম্বীদিগের সম্বন্ধে উদারতা প্রদর্শন ত দূরের কথা, সামান্ত সামান্ত মছলার মতভেদের জন্য আজ তাহারা অন্য সম্প্রদায়ের মুছলমানকে মারিয়া ধরিয়া মছজিদ হইতে বাহির করিয়া দিতে একটুও কৃষ্ঠা বোধ করে না ! কোআনের শিক্ষার ও রচুলের আদর্শের ইহা অপেক্ষা গুরুতর অবমাননা আর কি হইতে পারে ? বায়তুল মোকদছ ও কাবার মছজিদ লইয়া এহুদী, পাসিক, খৃষ্টান ও মক্কার পৌত্তলিকগণ যে মানসিকতার বশবৰ্ত্তী হইয়া অন্ত সম্প্রদায়ের লোকদিগের উপর অত্যাচার অবিচার করিয়া আসিতেছে, আয়তে সেই মানসিকতার নিন্দ করা হইয়াছে, এবং ইহা সকল যুগের সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সাধারণ ভাবে প্রযুজ্য । so আয়তের শেষভাগে বলা হইতেছে—যাহারা প্রকৃত পক্ষে ধৰ্ম্মভীরু লাক, এবং প্রকৃত পক্ষে মছজিদে গিয়া আল্লার হুজুরে আত্মনিবেদন করাই যাহাদের উদ্দেশু, তাহারা যখন । মছজিদে প্রবেশ করে, তখন আল্লার অন্তভূতি তাহার মনঃপ্রাণকে ব্যাপ্ত করিয়া ফেলে, নিজের অন্তরের অস্তস্তলে লুক্কায়িত পাপপুঞ্জের উপর আল্লার প্রখর দৃষ্টি অনুভব করিয়া সে ভীত ও নিজের ভাবনায় ব্যাকুল হইয়া উঠে । মছজিদে গিয়া পরের , দোষ ক্রট লইয়া কোন্দল পাকাইবার বা অন্তকে দণ্ড দিবার দুৰ্দ্ধৰ্বতা তাহার থাকে না। মছজেদের সম্মান যাহার করে, এইরূপে আল্লার হুজুরে ভীত নম্র মন লইয়া তাহদের সেখানে প্রবেশ করা উচিত ।