পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/২২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২য় ছুর, ১৫শ রুকু ] এলক্সাহিমের “পল্লীক্ষা” ' ২০৫ হুকুম দিলেন–র্তাহাকে গ্রেফতার করিয়া সকল লোকের সম্মুখে আদর্শদণ্ডে দণ্ডিত করিতে। সেখানে দোর্দণ্ডপ্রতাপ সম্রাটের ও সহস্ৰ সহস্ৰ দেশবাসীর সম্মুখে যুবক এবরাহিম বজ্ৰকঠোরু স্বরে উত্তর করিলেন—“আল্লাহকে পরিত্যাগ করিয়া তোমরা কি এমন সব ( অপদাৰ্থ ঠাকুর দেবতার ) পূজা করিতে চাও, যাহার তোমাদিগের একটুও উপকার বা ক্ষতি সাধন করিতে পারে না ? ধিক তোমাদিগকে, আর আল্লার স্থলে যাহাদের পূজা করিতেছ-তাহাদিগকে, তোমরা কি একেবারে অজ্ঞান !” ( ছুরা আম্বিয়া ৫ রুকু ) । তখন রাজার আদেশে এক ভীষণ অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জ্বলিত হইল এবং তাহীর দাউ দাউ শিখা যখন প্রতি মুহৰ্ত্তে ভীষণ হইতে ভীষণতর আকার ধারণ করিতেছিল, তখন এবরাঠিমকে বলা হইল- হয় নিজের মত ত্যাগ করিয়া তওবা কর, না হয় সম্মুগের ঐ অনলকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও ! * সত্যের সেবক এবরাহিম ইহাতে একটুও বিচলিত না হইয়া, সেই অনলকুণ্ডের ধারে দাড়াইয়া, শতগুণ অধিক উৎসাহের সহিত সত্যের ঘোষণা করিতে লাগিলেন । অবশেষে "সত্য সত্যই তাহাকে সেই ভীষণ অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হইল, কিন্তু তবুও তাহার ঈমান ও সত্যাকুরাগ একবিন্দুও দুর্বল হইতে পারে নাই । স্যায় ও সত্যের অন্তরোধে এমন অবিচলিত চিত্তে অত্যাচারী রাজার দণ্ডকে সানন্দে বরণ করিয়া লওয়া, বস্তুতঃই অতি কঠোর পরীক্ষা । হজরত এবরাহিম এই পরীক্ষায়ু চরম গৌরবের সহিত উত্তীর্ণ হইয়ুগছিলেন । এই জন্য আল্লাহ তাহণকে সমস্ত মানব সমাজের জন্য সাধারণভাবে, এবং মোছলেম জাতির জন্য বিশেষরূপে, মহিমময় অাদর্শ ও এমামরূপে মনোনীত করিয়াছিলেন । (৩) হজরত এবরাহিমের সাধকজীবনের এক আদর্শ হইতেছে—সত্যের জন্য তাহার . দেশত্যাগ। সত্যকে গ্রহণ ও প্রকাশ করার একমাএ অপরাধে তিনি নিজের জন্মভূমি হইতে বিতাড়িত হইলেন। নিঃস্ব নিসম্বল যুবকের পক্ষে এ অবস্থায় দিশাহর হইয়া পড়ারই । কথা । কিন্তু সত্যের যথার্থ সেবক হজরত এবরাহিম ইহাতেও বিচলিত হন নাই । কারণ র্তাহার জীবনযাত্রার লক্ষ্য ও মনজেলে মকছুদ পূৰ্ব্ব হইতেই অনাবিলভাবে নিৰ্দ্ধারিত হইয়া গিয়াছিল। তাই তিনি এই নুতন পরীক্ষার সময় স্বজনগণকে সম্বোধন করিয়া ভক্তিগদগদ انی ذاهب لیلی ربی سایه دیری - آق آ۹۹m sf t % ۴. —“আমি আমার প্রভুর পানে যাত্রা করিলাম—তিনিই আমাকে পথ দেয়াইয়া দিবেন।” (৩৭–৯৭) । এই শব্দগুলির অন্তরালে যে গভীর বিশ্বাস, আত্মসত্যে যে দৃঢ় প্রত্যয়, এবং আল্লার প্রতি যে নির্ভর ও আত্মসমর্পণের ভাব লুকাইয়া আছে, তাহাই হইতেছে সাধকজীবনের শ্রেষ্ঠতম উপকরণ । o ( ৪ ) হজরত এবরাহিমের শেষ বয়সের চরম পরীক্ষা ও পরম সার্থকতা হইতেছে— র্তাহীর পুত্ৰবলিদানে। ভক্ত এবরাহিম আল্লাহকে বলিয়াছিলেন-আমি বিশ্বসংসারের সমস্ত