পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কোলভাল শল্পীফ [ প্রথম পার। ده বলিতেছেন—আমাদের বংশধরদিগের মধ্যে একটা মোছলেম-মণ্ডলী তুমি পয়দা করিও । হজরত এবরাহিম ও হজরত এছমাইলের বংশধরগদিগের মধ্যে, আজ হইতে সাড়ে তের শস্ত বৎসর পূৰ্ব্বে সেই নামেই ঐ মণ্ডলীর উত্থান হইয়াছিল। আজও আমরা সেই নামকে গৌরবের সহিত বহন করিয়া আসিতেছি । কিন্তু বস্তুতঃ আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কোন স্তরে, সেই আত্মসমর্পণের কোন একটু প্রভাব খুজিয়া পাওয়া যায় কি ? (৩) পথের চেষ্টায় বাহির হইয়া পথের সার্থীকে ডাক দিতে হয় । ডাকার মত ডাকিতে পারিলে সেই সার্থী মুর’রূপে প্রকট হইয়া পথ দেখাইয়া দেন। চুর ফাতেহার তফছিরে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হইয়াছে। এখানেও পিতা পুত্রে সমকণ্ঠে প্রার্থনা করিতেছেন—তুমিই আমাদিগকে মুক্তির পথ দেখাইয়া দাও পথ যাহারা দেখিতে চায়, এই প্রার্থনাই তাহদের প্রধান সম্বল হওয়া উচিত। (৪) পথ খুজিতে, পথ দেখিতে ও পথ চলিতে নানা বিভ্রমের ফলে সৰ্ব্বদা ক্রটি বিচ্যুতি ঘটাই মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক । ইহার জন্য অন্ততপ্ত হৃদয়ে বিনয়-অবনত-মস্তকে সেই পরম ক্ষমাশীল করুণানিধানের সন্নিধানে সৰ্ব্বদাই নিজকে অপরাধী বলিয়া মনে করা, সে জন্য র্তাহার হুজুরে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং সঙ্গে সঙ্গে তাহার তাউওয়াব ( পরম ক্ষমাশীল ) ও রহিম ( করুণানিধান ) নামের মহিমাস্মরণে অশান্বিত হইয়া থাকা—মোছলেম-জীবনের একটা প্রধানতম কৰ্ত্তব্য । ১১৮ চরম প্রার্থনা :-- মহিমান্বিত পিতা-পুত্রের ইহাই হইতেছে, চরম প্রার্থনা । এখানে তাহারা নিজেদের বংশধরগণের মধো তাহাদিগের মধ্যকার একজন নবী পয়দা করার জন্য অশল্পার নিকট প্রার্থনা করিতেছেন । এষ্ট প্রার্থনার কণম্য “সেই মহানবী” হইতেছেন—হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা, অন্তর্বর মঞ্চ প্রাস্তরের সেই শান্তিময় নগরে এছমাইল বংশে জন্মগ্রহণ করিয়া, যিনি মোছলেম উম্মতের নিকট আল্লার বাণীগুলি প্রচার করিয়া গিয়াছেন। এই রছুলের চরিট গুণের বিষয় হজরত এৰরাহিমের মোনাজগতে বর্ণিত হইয়াছে—( ১ ) সেই রছুল নিজে আল্লার আয়তগুলির আবৃত্তি করিবেন, কিন্তু আবৃত্তি করিয়াই ক্ষান্ত হইবেন না, (২) যে কেতবে অম্বিতগুলি লিখিত আছে, সেই কেতাব অর্থাৎ কোআনের মর্শ্ব ও অর্থও তিনি সকলকে শিক্ষা প্রদান করিবেন। (৩) তাহার পর কোম্রানের প্রত্যেক শিক্ষার স্তরে স্তরে যে সকল হেকমত বা গভীর তত্ত্ব নিহিত জলছে, সে সমস্তও তিনি শিক্ষণ দিৰেন— এবং ( $ ) এই সকল শিক্ষার দ্বারা নিজের উম্মৎকে তিনি দিন-জুলার এবং ভিতর ও বাহিরের সকল প্রকার কলঙ্ক ও কলুষ হইতে, সকল প্রকার অশুচি ও মলিনতা হইতে পরিশুদ্ধ করিয়া দিবেন। হজরত রচুলে করিমের ছহি হাদিছগুলিতে আমরা হেকমতের সন্ধান পাইতে পারির। o