পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২১৩ কোরআন শরীফ প্রথম পারা অন্ধবিশ্বাসের মোহপাশ ছিঃ করিয়া মুক্ত মোছলেমরূপে পূর্ণ তাওহিদকে যথাযথভাবে গ্রহণ করিতে সমৰ্থ হইতেছেন । কিন্তু এহুদীরা তাহার সে অাদর্শকে পরিত্যাগ করিয়া নিজেদের আলেম ও ফকিরদিগকে, uU up = tg) আল্লার পরিবর্তে ঈশ্বররুপে গ্রহণ করিতেছে। এই আয়তের তফছিরে স্বয়ং হজরত রচুলে করিম বলিতেছেন—এহুদীদিগের আলেম ও পীর ফকিরেরা যে বিষয়কে হারাম বলিয়া ফৎওয়া দেয়, তাহারা তাহাকে হারাম বলিয়া গ্রহণ করে—পক্ষান্তরে যে বিষয়কে তাহারণ হালাল বলিয়া ব্যবস্থা দেয়, এহুদীরা তাহাকে হালাল বলিয়া মানিয়া লয় । বস্তুতঃ আল্লার কেতবে তাহা ঐরূপ হালাল বা হারাম কি না, সে বিচার তাহার করে না, করিতে চায় না—এমনকি, করাকে অধৰ্ম্ম বলিয়া মনে করে । ইহাই হইতেছে এহুদীদিগের আল্লার পরিবর্তে আলেম ও পীর ফকিরদিগকে ঈশ্বর বানাইয়৷ লওয়া । ( ছুরা তওবা, ৩১ আয়তের তফছির দ্রষ্টব্য )। হজরত এবরাহিমের প্রধান শিক্ষা তাওহীদ বা একেশ্বরবাদ । সকল প্রকারের পৌত্তলিকতা ও অংশীবাদকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করিয়া, তিনি সকল বিশ্বের একমাত্র মালেকের প্রতি একনিষ্ঠভাবে আত্মসমর্পণ করিয়াছিলেন। কিন্তু খৃষ্ঠানের যীশুকে, পবিত্ৰাত্মাকে, এমনকি যীশু-জননী মেরীকে পর্য্যন্ত, সেই মালেকের সহিত সমান অংশী করিয়া লইয়া ত্রিত্ববাদের স্বষ্টি করিয়াছে । তাওহীদের একনিষ্ঠ সেবক হজরত এবরাহিমের সমস্ত সাধনা ও সিদ্ধির স্বত্রপাত হইয়াছিল—পুতুল পূজার প্রতিবাদে। সেগুলিকে বর্জন করাতেই তাহার সেই লোমহর্ষণ অনল পরীক্ষা । পৌত্তলিকতার সকল কলুষ হইতে পাক ছাফ থাকিয়৷ এছমাইলের বংশধরেরা সেই এক অদ্বিতীয় ও নিরাকার প্রভুর এবাদত করিবে-এই জন্যই তিনি পুত্রকে লইয়া আৰু কোবায়ুছের মুক্ত প্রাস্তরে কা'বা গৃহের নিৰ্ম্মাণ করিয়াছিলেন । কিন্তু সেই এছমাইলের বংশধর কোরেশরাই এবরাহিমের নিৰ্ম্মিত সেই কণ বায়ু ৩৬০টা প্রতিমা ও প্রতিমূৰ্ত্তি প্রতিষ্ঠা করিয়া ঈশ্বর-জ্ঞানে তাহদের পূজা অৰ্চনা আরম্ভ করিয়া দিয়াছিল । ফলতঃ এবরাহিমকে লইয়া যাহারা গর্ব ও কোন্দল করিতেছিল, তাহারা সকলেই র্তাহার প্রদশিত ধৰ্ম্মপথ এবং তাহার প্রতিষ্ঠিত পুণ্য আদশ হইতে সম্পূর্ণরূপে পর মুখ হইয়া পড়িয়াছিল । এইরূপে মানবজীবনের সকল দিক দিয়া তাহারা সকলেই নিজদিগকে ধ্বংস করিয়া ফেলিয়াছিল । 押 & হজরত এবরাহিম কুলপতি—সুতরাং তাহার প্রবৰ্ত্তিত পন্থার অনুসরণ করিতে হইবে, এইরূপ সন্দেহ হয় ত কাহারও মনে উদিত হইতে পারে । সেই জন্য আয়তের শেষভাগে এবং তাহার পরবর্তী কতকগুলি আয়তে র্তাহার শিক্ষা ও সাধনার মূল নীতি এবং তাহার নবীজীবনের বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যক্ত করিয়া দিয়া বলা হইতেছে—মাতুব অনুসরণ করিবে সেই নীতি ও বৈশিষ্ট্যগুলির ।