পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/২৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬২ . কোজআন শরীফ [ দ্বিতীয় পারা অন্যায় ও অত্যাচারের মধ্যবৰ্ত্তিতায় অবৈধ উপায়ে যে অর্থ ও সম্পত্তি আমরা হস্তগত করিয়া থাকি, তাহ লইয়া সমাজে একটুও উত্তেজনার স্বষ্টি হইতে দেখা যায় না। আয়তের শেষভাগে শয়তানের পদলেখার অনুসরণ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে। ইহার বিশদ পরিচয় পরবর্তী আয়তে দেওয়া হইয়াছে। মানুষের পক্ষে যাহা হারাম নহে, তাহাকে হারামে পরিণত করিয়া দেওয়াও শয়তানের একটা লক্ষণ—এই মৰ্ম্মের একটী হাদিছ ছহি মোছলেমে বর্ণিত হইয়াছে (কছির ১–৩৭৮) । ১৫৮ পূর্বপুরুষের অন্ধ-অনুকরণ :– জাতীয় জীবনের সর্বাপেক্ষা গুরুতর ও মারাত্মক রোগের কথা এই আয়ুতে বর্ণিত হইয়াছে । আল্লাহ তাহার কেতবে মানুষের পক্ষে করণীয় অকরণীয় সব নিৰ্দ্ধারিত করিয়া দিয়াছেন । জীবনের সকল স্তরে সেই কেতাবের অনুসরণ করিয়া চলাই মানুষের কৰ্ত্তব্য । কিন্তু মাষ্ট্ৰৰ মুখে ধাৰ্ম্মিকতার যতই দাবী করুক না কেন, কার্য্যক্ষেত্রে তাহারা আল্লার কেতাবকে পরিত্যাগ করিয়া নিজেদের পূর্বপুরুষগণের অন্ধ অনুকরণ করিয়া চলার জন্য সৰ্ব্বদাই দৃঢ়সঙ্কল্প। এইরূপে ক্রমে ক্রমে আল্লার কেতাব বা স্বগীয় ধৰ্ম্মশাস্ত্রের সত্যদর্শন হইতে তাহারা বঞ্চিত হইয়া পড়ে এবং পূর্বপুরুষের নামকরণে আল্লার কেতাবের বিরুদ্ধাচরণ করিতেও তাহারা কুষ্ঠিত হয় না। দুনার সমস্ত ধৰ্ম্মসমাজের পতন হইয়াছে প্রধানতঃ এই কারণে । বৰ্ত্তমান সময় মুছলমানজাতির সর্বগ্রাসী অধঃপতনের কারণও এই পূৰ্ব্বপুরুষপূজা ব্যতীত আর ਿਲ੍ਹੇ নহে। মুছলমান আজ নিজকে দলে দলে বিভক্ত করিয়া লইয়াছে এবং তাহার মধ্যকার প্রত্যেক দলে সচল হইয়া আছে, নিজ নিজ দলের নির্বাচিত এমাম ও অালেমদিগের মতামত । অল্পার কোরআন ও র্তাহার রচুলের হাদিছ সেখানে একেবারে অচল । কারণ, সে সম্বন্ধে যাহা ভাবিবার বুঝিবার ও বলিবার ছিল, বোজগানে দিন ও ছলফে ছালেহীন সে সব ভাবিয়া ও বলিয়া শেষ করিয়া গিয়াছেন ! এখন তাহীদের তকলিদ বা অন্ধ অনুকরণ করিয়া ধাওয়াই মুছলমানের পক্ষে ওয়tজৈব। অন্যথায় খাটি মুছলমান ও ছুন্নৎজমাতের জন্তভূক্ত বলিয়া দাবী করার তাহার আর কোনই অধিকার থাকিবে না। র্যাহারা মুখে এই তকলিদর্কে অস্বীকার করিয়া অন্তপক্ষকে নানা প্রকার তীব্রভাষায় আক্রমণ করিতেছেন, বস্তুতঃ তাহারাও আর সকলের ন্যায় তকলিদের মায়ামোহে সমানভাবে আত্মবিশ্বত হইয়া আছেন। প্রথম পক্ষ 'এমামগণের তকলিদ বলিয়া যাহা করিতেছেন, দ্বিতীয় পক্ষও ছলফে ছালেহীনের এত্তেবা বলিয়। ঠিক সেই পথেরই অনুসরণ করিয়া চলিয়াছেন। তফাৎ শুধু এইটুকু যে, প্রথম পক্ষ ইহা স্বীকার করেন এবং দ্বিতীয় পক্ষ কথার বেলায় অস্বীকার করেন, অথচ অন্ধ-মোকাল্পেদ উভয়ই । W