পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/২৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ং চুরা, ২১শ রুকু ] কতকাংশ গোপন করা S_NC কোন ঠাকুর দেবতা বা পীর আওলিয়ার নামে উৎসর্গ করিলে, জবাই করার সময় আল্লার নাম করিলেও তাহা হারাম হইবে । ‘ওহেল্লা' U৯ শব্দের অর্থ—উচ্চ শব্দ করা ও ঘোষণ। করা। উহার সঙ্কে “জবাই করিবার সময়”-এই শর্ত যোগ করিয়া দিলে, বস্তুতই কোরআনের ‘তাহরিফ’ করা হইবে ( আজিজী ১—৪১৬ )। যে জীবজন্তু গয়রুল্লার নামে উৎসর্গীত হয়, তাহার মাংস ভক্ষণ করিলে শেরেক বা অংশীবাদের সমর্থন করা হয়, এই জন্য তাহা হারাম হইয়াছে। রক্ত, মৃত জীবজন্তুর মাংস ও শূকর মাংস ভক্ষণ করিলে, তাহাদ্বারা মন ও মস্তিকের শুচিতা ও সাবিকতা নষ্ট হইয়া যায় এবং পাশবিক ভাব প্রবল হইয়া উঠিতে থাকে, এই জন্য ঐগুলিকে হারাম করা হইয়াছে । আয়তের শেষভাগে বলা হইতেছে যে, কোন ব্যক্তি যদি এরূপভাবে নিরুপায় হইয়া পড়ে যে, ঐ নিষিদ্ধ ভক্ষণ না করিলে তাহার প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা হয় । অথচ সে বিদ্রোহভাবে তাহা ভক্ষণ করিতে প্রবৃত্ত হইতেছে না এবং সে আশঙ্কা }র হইয়া গেলে পুনরায় তাহা ভক্ষণের ইচ্ছাও সে রাখে না। এরূপ অবস্থায় প্রাণরক্ষার জন্য যতটুকু আবশ্যক, ততটুকু মাত্র নিষিদ্ধ বস্তু ভক্ষণ করিলে তাহার প্রতি কোন দোষ বৰ্ত্তায় না । এই আয়ত হইতে শরিয়তের একটা অতি আবশ্যকীয় ওচুল বা নীতির সন্ধান পাওয়া যাইতেছে । মুছলমান ব্যক্তিগত বা জাতিগতভাবে যদি এমন প্রকারে বিপন্ন ও নিরুপায় হইয়া পড়ে যে, কোন একটা নিষিদ্ধ বস্তুকে গ্রহণ না করিলে তাহার ব্যক্তিগত বা জাতিগত জীবন রক্ষা পাওয়া যথার্থই অসম্ভব হইয়া দাড়ায় । সে অবস্থায় এবং মাত্র সে অবস্থা বিদ্যমান থাকা পয্যন্ত, সেই নিষিদ্ধ বস্তুকে গ্রহণ করাতে তাহার কোন পাপ হয় না । কতক বস্তু এহুদীদিগের প্রতি মূলতঃ হারাম ছিল, এবং আর কতকগুলি মূলে হারাম না থাকিলেও, তাহীদের নানা দুষ্কর্মের দণ্ডস্বরূপে হারাম করিয়া দেওয়া হইয়াছিল (৬– ১৪৭)। কতকগুলি জিনিষকে তাঙ্গরা তাওরাত নাজেল হওয়ার পূৰ্ব্বে স্বেচ্ছাক্রমে নিজেদের উপর হারাম করিয়া লইয়াছিল । শেষের দুই প্রকার বস্তুকে কোআন মুছলমানের জন্য নিষিদ্ধ করে নাই বলিয়া এহুদীরা বাদ প্রতিবাদ জুড়িয়া দেয় । এখানে তাহাদিগের উত্তরে তাওরাতে মূলতঃ নিষিদ্ধ বস্তুগুলির উল্লেখ করি বলা হইতেছে—তাওরাতে’ত তোমাদিগের জন্য কেবল এই কয়ুটী বস্তুকে হারাম করা হইয়াছিল । আয়তে কেবল শব্দ প্রয়োগের তাৎপৰ্য্য ইহাই । পরবর্তী আয়তগুলিও মুখ্যতঃ এহুদীদিগের প্রসঙ্গেই বর্ণিত হইয়াছে। বাইবেল পুরাতন নিয়ম বা তাওরাতের লেবীয় পুস্তকে শূকরমাংস, মৃত জীবজন্তুর মাংস ও রক্তকে নিষিদ্ধ বা হারাম বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। ইহার জন্য যথাক্রমে ঐ পুস্তকের ১১–৬, ১৭—১৫ ও ৭–২৬ পদ দ্রষ্টব্য। ১৬২ কতকাংশ গোপন করা ঃ– নিজের স্বাধ ও সংস্কারের প্রতিকুল যাহা নহে, সেইগুলি ব্যক্ত করে এবং বেগুলিধারা p ○8 * -