পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/২৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


RCRR , কোরআন শরীফ [ দ্বিতীয় ;ার। লোকের এবং নারীর পরিবর্তে তাহার গোত্রস্থ কোন পুরুষের প্রাণদণ্ড করা হইত। আরবদেশ ব্যতীত অন্য সমস্ত দেশেও এই শ্রেণীর অবিচার সমানভাবে প্রচলিত ছিল। ‘ন শরীরে ব্রাহ্মণস্ত দণ্ডঃ-শ্রেণীর আইন তখন দুনার সকল জাতির মধ্যে প্রচলিত ছিল। কোরআন এই ব্যবস্থার প্রতিবাদ করিয়া বলিতেছে--যে হত্যা করিবে, প্রাণদণ্ড করিতে হইবে তাহার। সে ভদ্র, স্বাধীন বা ব্রাহ্মণ বলিয়া তাহার দণ্ড লাঘব করা বা তাহার পরিবৰ্ত্তে অন্ত কাহাকে নিহত করা সঙ্গত হইবে না। পক্ষান্তরে হত্যাকারী দাস বলিয়া বা স্ত্রীলোক বলিয়া তাতাদের স্থলে কোন স্বাধীন লোককে বা পুরুষকে হত্যা করার দাবী চলিতে পারিবে না। 尊 (খ ) নরহত্যার বিভিন্ন কারণগুলির প্রতি মনোযোগ প্রদান করিলে এবং নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত ও বা প্রতিপাল্য স্বজনগণের বিভিন্ন অবস্থা সম্বন্ধে আলোচনা করিয়া দেখিলে, সময় সময় প্রাণদণ্ডের পরিবর্তে অর্থদণ্ড করা এবং তাহাদ্বারা নিহত ব্যক্তির প্রতিপালাদিগের আর্থিক ক্ষতির পূরণ করিয়া দেওয়াই অধিক সঙ্গত বলিয়া মনে হইবে। এরূপ অবস্থায় নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা সম্মত হইলে, প্রাণদণ্ডের পরিবর্তে কেবল ক্ষতিপূরণ আদায় করিয়া লইয়াই আসামীকে মুক্তি দেওয়া হইবে । ১৬৭ দণ্ডবিধির হেতুবাদ — নরহস্তকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করিতে হইবে এবং এই দণ্ডদানে কোন প্রকার পক্ষপাতের org" দেওয়া হইবে না— ইহাই হইতেছে কোআনের ব্যবস্থা । হত্যাকারীকে যদি দণ্ডিত করা না হয়, তাহা হইতে নরহত্যার সংখ্যা দিন দিনই বাড়িয়া যাইবে । পক্ষগুনে এই শ্রেণীর মোকদ্দমার বিচারকালে যদি ন্যায় ও সাম্যের মর্য্যাদা সম্পূর্ণভাবে রক্ষিত না হয় তাহা হইলে অন্তর্বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধ প্রভৃতির ফলে সামাজিক ও নাগরিক জীবন অশান্তিতে 龜 μί হক্টর বাইবে । কাজেই এই ব্যক্তিগত ও নাগরিক জীবনকে নিরাপদ রাখার জন্তই নরহস্তার প্রতি প্রাণদণ্ডের ব্যবস্থা করা আবশ্যক । আয়তে দণ্ডবিধির এই মূলতত্ত্বের কথা বলা হইতেছে, সেই জন্য এখানে জ্ঞানী ও তত্ত্বদশী লোকদিগকে বিশেষরূপে আহবান করা হইয়াছে। কারণ, দয়া ও ক্ষম। মানুষের অতি উত্তম গুণ হইলেও, অপাত্রে নিহিত হইলে তাহাই যে অধিকাংশ মানুষের প্রতি নিৰ্ম্মমতা ও অত্যাচারে পরিণত হইয়া যায়, জ্ঞানীলোকেরাই কেবল একথা সম্যকরূপে বুঝিতে পারেন। ১৬৮ অছিয়ৎ — যাহারা পরহেজগর ও পুণ্যবান হইতে চায়, তাহদের আরএকটা অপরিহায্য কৰ্ত্তব্যের কথা এই আয়তে বলিয়৷ দেওয়া হইতেছে । আয়তের মৰ্ম্ম এই যে, কোন ব্যক্তি যদি ধনসম্পত্তির অধিকারী হয়, তাহা হইলে মৃত্যুকালে নিজেদের আত্মীয়ুদিগের, বিশেষ করিয়া পিতামাতার জন্ত সেই ধনসম্পত্তির বণ্টন সম্বন্ধে অছিয়ং করিয়া যাওয়া, তাহার পক্ষে একান্ত কৰ্ত্তব্য ।