পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/৩৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


NSCzo কোরতমাল শল্লীছন { দ্বিতীয় পারা রচয়িতার তাহাকে একদম ধর্থের সহিত সম্বন্ধশ্বন্ত একটা civil contract মাত্র বলিন সিদ্ধান্ত করিয়া দিয়াছেন, সেই হানাফী আইনেরই দোহাই দিয়া ! ২২৮ খোলা-সংক্রান্ত বিবরণ ঃ– স্বামী স্ত্রীকে যাহা দিয়াছে, তাহার কোন অংশ তাহার নিকট হইতে ফিরাইয়া লওয়া স্বামীর পক্ষে বৈধ হইবে না। যাহা হইতে এখানে প্রধানতঃ মোহরকে বুঝাইতেছে । মোহর ব্যতীত অন্ত কোন ধনসম্পত্তিও যদি স্বামী স্ত্রীকে চরমভাবে দান করিয়া থাকে, তাহ। ফিরাইয়। লওয়াও বৈধ হইবে না। আজকাল মোহরকে যেমন একটা হিল-শরীতে পরিণত করা হইয়াছে, তাহা কোআনের ও হাদিছের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। মোহরের ঋণ যে পরিশোধ করিতে হয় এবং বিবাহের সিদ্ধতা যে মোহরের উপরে বহু পরিমাণে নির্ভর করিয়া থাকে, ইহা আজকাল আর কেহ মনে করেন না। যে অবস্থায় স্ত্রীর পক্ষ হইতে তালাকের প্রস্তাব হয় নাই, বরং স্বামী নিজের ইচ্ছাক্রমে তালাক দিতে প্রস্তুত হইয়াছে, সে অবস্থায় স্বামী তাহার দেওয়া মোহর প্রভৃতি কিছুই ফেরৎ লইতে পারবে না। চুরা নেছার প্রথমভাগে ও অন্যান্ত স্থানেও এই আদেশ দেওয়া হইয়াছে। বলা বাহুল্য, দাএন মোহর শোধ না হইয়া থাকিলে তালাকের সময় তাহ সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করিয়া দেওয়াও স্বামীর কৰ্ত্তব্য। কিন্তু স্বামী তালাক দিতে অনিচ্ছুক, এরূপ অবস্থায় স্ত্রী যদি বিবাহ বিচ্ছেদ করাইয়ু লইতে চায়, এবং সে জন্ত নিজের স্ত্রীধনের কিছু স্বামীকে দিয়া রফ নিস্পত্তি করাইয়া লইতে সে যদি প্রস্তুত হয় তাহা হইলে স্বামীর পক্ষে তাহা গ্রহণ করা অবৈধ হইবে না । এই প্রকারু বিবাহবিচ্ছেদকে শরিয়তের পরিভাষায় খোলা বলা হয়। আয়ুতে বিবাহবিচ্ছেদের পদ্ধতি সম্বন্ধে পর পর যে দুইটা স্তরের কথা বর্ণিত হইয়াছে তাহা বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করার বিষয়। স্বামী ও স্ত্রী যদি মনে করে যে, আল্লার বিধান পালন করিয়া চলা আর তাহাদিগের পক্ষে সম্ভবপর হইবে না, অর্থাৎ স্ত্রীর প্রতি স্বামীর যে কর্তৃবা অথবা স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যে কৰ্ত্তব্য আল্লাহ নিৰ্দ্ধারণ করিয়া দিয়াছেন, সে কৰ্ত্তব্য পালন করিতে তাহারা আর সমর্থ হইবে না—তাহা হইলে দিনের এমাম বা তাহার কাজীদিগের নিকট, অথবা সমাজপতি বা বিচারপতিদিগের নিকট নিজেদের এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করিয়া তাহারা বিচ্ছেদের প্রার্থনা করিবে—নিজেদের মনে একটা আশঙ্কা হইল, আর বিবাহ বন্ধন ছেদ করিয়া ফেলিল, এরূপ স্বেচ্ছাচারের অল্পমতি কোঅান মুছলমানদিগকে, কখনই প্রদান করে নাই। তাই সঙ্গে সঙ্গে সমাজপতিদিগকে সম্বোধন করিয়া বলা হইতেছে —তোমরাও যদি দেখ যে, বাস্তবিকই তাহীদের আশঙ্কা অমূলক নহে, ভবিষ্যতে আল্লার বিধানকে পালন করিয়া চলিতে তাহার সমর্থ হইবে না, কেবল সেই অবস্থাতেই তাহীদের স্থায়ীবিচ্ছেদের ব্যবস্থা হইতে পারবে ।