পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/৩৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


N9C3 কোরআন শরীফ [ দ্বিতীয় পাপ। বৈধ হইবে না। তবে ঐ স্ত্রী যদি অন্ত স্বামীর সহিত বিবাহিত হয় আর সহবাসের পর এই দ্বিতীয় স্বামী যদি তাহাকে স্বেচ্ছাক্রমে তালাক প্রদান করে, এবং তখন যদি স্ত্রী তাহলে প্রথম স্বামীর সহিত বিবাহ করিতে সম্মত হয়, তাহা হইলে কেবল এই অবস্থায় তাহীদের পুনর্মিলন বৈধ হইতে পারে। দ্বিতীয় স্বামী যদি সহবাসের পূৰ্ব্বে তালাক দেয়, তাহা হইলে প্রথম স্বামীর পক্ষে ঐ স্ত্রীকে বিবাহ করা সিদ্ধ হইবে না, তাহা এই আয়ত হইতে এবং ইহাস সমর্থক হাদিছ হইতে স্পষ্টতঃ জানা যায়। বোখারী, মোছলেম প্রভৃতিতে বিবি আত্রশ কর্তৃক বর্ণিত _80 - সংক্রান্ত হাদিছে ইহার স্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান আছে। আয়তের উদ্দেশ্য এই যে, তালাকী স্ত্রী অন্য স্বামীর সহিত যথানিয়মে বিবাহিত হওয়াল পর, ঘটনাক্রমে তাহাদিগের দাম্পত্যজীবনও যদি অসুখকর হইয়া দাড়ায় এবং “আল্লার বিধান” অনুসারে এই স্বামীও যদি স্ত্রীকে তালাক দিয়া ফেলে, তাহা হইলে এই স্ত্রীর সহিত প্রথম স্বামীর পুনরায় বিবাহ হইতে পারে। নিতান্ত নিলজি ও বেগায়রৎ না হইলে কোন মাতুষই অার এই প্রকার বিবাহে সম্মত হইতে পারে না । ফলতঃ তালাকের পথে বাধা দেওয়াই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য । যদি কোন ব্যক্তি, প্রথম স্ত্রীর সহিত পুনরায় বিবাহ করার অভিসন্ধি আঁটির অন্ত কোন পুরুষকে তালাক দিবার শর্তে রাজী করতঃ তাহার সহিত ঐ তালাকী স্ত্রীর বিবাহ ঘটাইয়া দেয়, তাহা হইলে সে বিবাহ এছলীমের পরিভাষায় কখনই বিবাহ নামে অভিহিত হইতে পারে না । যাহার এইরূপ বিবাহ দেয় বা করে, আল্লাহ ও তাহার রচুলের মুখে তাহাদিগের উপর শতসহস্র অভিসম্পাৎ বর্ষিত হইয়াছে, তাহাদিগকে অভিশপ্ত মলউন বলিয়া কঠোর ভাষায় ভৎসনা করা হইয়াছে (অtহমদ, তিরমিজি, আবুদাউদ, এবনে-মাজা, বায়হাকী প্রভৃতি ) ৷ এই তথাকথিত বিবাহ “হজরতের সময় স্পষ্ট ব্যভিচার বলিয়াই গণ্য হইত” ( হ'কেম, বায়ুহাকী ) , এই প্রকার অনাচারকে বিবাহ নামে খ্যাত করা আর কোরআনের সহিত বিদ্রুপ করা একই কথা ( এবনে-আব্বাছ, মনচুর ) । এই প্রকার বিবাহ যে কোন মতেই সিদ্ধ হইতে পারে না, হাফেজ এবনে কাইয়ম তাহা অতি বিশদ ও সম্পূর্ণ অকাট্যরূপে প্রতিপন্ন করিয়াছেন (এ'লাম ৩– ৫৫ ) । এমাম মালেক, এমাম শাফেয়ী, এমাম আহমদ বেন হাম্বল, এমাম আওজায়ী প্রভৃতি আলেম ও এমামগণ ইহাকে অন্যায় ও অসিদ্ধবিবাহ বলিয়া অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন ( তফছিরআহমদ ১৩২ পৃষ্ঠা ও ১নং টীকা দেখ )। পাঠক দেখিয়াছেন, একসঙ্গে তিন তালাক দেওয়াকে একদল পণ্ডিত বেদত্মাৎ ও হারাম বলিয়া স্বীকার করা সত্ত্বেও ঐ শ্রেণী তালাককে সিদ্ধ Valid বলিয়া ফৎওয়া দিয়াছেন। কোরআন ও হাদিছের স্পষ্ট শিক্ষার এইরূপ বিরুদ্ধাচরণ করার ফলে এখন অবস্থা এইরূপ দাড়াইয়াছে যে, হঠাৎ উত্তেজনার বশবর্তী হইয়া লোকে একসঙ্গে তিন তালাক দিয়া বসে, আর র্তাহীদের ফৎওয়া অনুসারে তাহ চরম তালাক বলিয়া গণ্য হইয়া যায় । অথচ স্বামী পরমুহূর্তে অমৃতপ্ত হইয়া স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার জন্য ব্যগ্রতা প্রকাশ করিতে { डे