পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/৩৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


కpaNరి 酶 কোরআন শরীফ [ দ্বিতীয় পাল্ল পর্য্যন্ত খোরোপোষ পাইতে থাকিবে এবং তাহার ওয়ারেছগণ এই সময় পর্য্যন্ত তাহাকে বাটী হইতে বাহির করিয়া দিতে পরিবে না। এই অছিয়াত অনুসারে সকল প্রকার অত্যাচার সহ করিয়াও বিধবাগণ এক বৎসর পর্য্যস্ত স্বামী গৃহে অবস্থান করিতে বাধ্য হইত, বিবাহ বা নিজের সম্বন্ধে অন্য কোন ব্যবস্থা করার স্বাধীনতা ঐ শ্রেণীর বিধবাদের থাকিত না । কোরআন এই প্রচলিত প্রথার সংস্কার করিয়া দিয়া বলিতেছে—ঐ শ্রেণীর বিধবার ইচ্ছা করিলে তাহার পরলোকগত স্বামীর অছিয়ত হইতে উপকার লইতে পারে, পক্ষান্তরে সে সঙ্গত মনে করিলে নিজের সম্বন্ধে অন্য ব্যবস্থাও করিতে পারে । যাহার উপকারের জন্য অছিয়ং, সেই যখন নিজের মঙ্গলের জন্য তাহা প্রত্যাখান করা সঙ্গত মনে করিতেছে, তখন স্বামীর উত্তরাধিকারীদের আর কোন দায়ীত্ব ত থাকিতেছে না। ইচ্ছা করিলে, ইন্দতের পর, সে নিজের সম্বন্ধে স্বাধীনভাবে যে কোন সঙ্গত ব্যবস্থাকরিতে পারে। অধিকাংশ তফছিরকারের মতে এই আয়তটা মনচুখ বা রহিত। কিন্তু কোন আয়তের দ্বারা ইহা মনচুখ হইয়াছে, সে সম্বন্ধে তাহীদের মধ্যে ঘোর মতভেদ দেখা যায়। একদল লোক “ এই আয়তটীকে বিভিন্নখণ্ডে বিভক্ত করিয়া, বিভিন্ন আয়ত ও হাদিছ দ্বারা ইহার বিভিন্ন অংশকে রহিত প্রমাণ করায় চেষ্টা পাইয়াছেন ! মোজাহেদ, আবু মোছলেম এমামরাজী প্রভৃতির মতে আয়তটা মনচুখ বলা অন্যায়। বস্তুতঃ এই আয়তীকে মনচুখ বলার কোন প্রমাণ নাই, তাহার কোনও দরকারও নাই। প্রধানতঃ র্তাহারা মনে করিয়াছেন যে, এই আয়তে বিধবাকে এক বৎসর ইন্দত পালন করার আদেশ দেওয়া হইয়াছে এবং স্বামীর সম্পত্তি হইতে এক বৎসরের ভরণ পোষণ তাহার প্রাপা বলিয়া নিৰ্দ্ধারিত হইয়াছে। র্তাহারা বলিতেছেন, এই ছুরায় ২৩৪ আয়ত দ্বারা বিধবার ইদত চরিত্নাস দশদিন নিৰ্দ্ধারিত হইয়াছে। সুতরাং ঐ আয়ত দ্বারা আলোচ্য আয়তের - একবৎসর ইন্ধতের ব্যবস্থ৷ ” রহিত হইয়া যাইতেছে। এ সম্বন্ধে আমাদের নিবেদন এই যে, এই আয়তে ধাত্র স্বামীর বাটীতে অবস্থান করার কথা বলা হইয়াছে, ইন্দতের সহিত তাহার কোনই সম্বন্ধ নাই। তাহারপর একটা মোটা কথা এই যে, যে আয়তটা রহিত হইবে তাহার উল্লেখ আগে হওয়া চাই, আর যাহা দ্বারা সেটা রহিত হইবে, সে আস্থতটা পরে আসা চাই। কিন্তু এখানে দেখিতেছি, ২৩৪ আয়ত দ্বারা ২৪০ আয়ত রহিত হইয়া যাইতেছে ! তাহার পর তাহারা মনে করিয়াছেন—এই আয়ত অনুসারে স্ত্রী উত্তরাধিকার হিসাবে মাত্র এক বৎসরের খোরোপোষের অধিকারিণী। তাই ছুরনেছার ফারাএজ সংক্রান্ত আয়তকে ইহার বিপরীত মনে করিয়া, এই আস্থতটাকে মনচুখ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন। কিন্তু উত্তরাধিকারের সহিতও এই আয়তের কোনই সম্বন্ধ নাই। ইহার পরবর্তী আয়তে তালাকী মীদিগের জন্য বিহিতরূপে কিছু সংস্থান করিয়া দেওয়ার আদেশ দেওয়া হইয়াছে। এখানেও সেইরূপ বিধবা সম্বন্ধে ঐ প্রকার সদ্ব্যবহার করার উপদেশ দেওয়া হইয়াছে।