পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/৪০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


<ન્દ્ર ■ কোরতমাল শরীফ [ দ্বিতীয় পারা ভাববাদীর পুস্তক হইতে গৃহীত হইয়াছে। সেখানে ভাববাদের পরিভাষায় জাতির হিসাবে এছরাইলের জীবন-মরণের কথাই বলা হইয়াছে ( দেখ ৩৭ অধ্যায় ১—১১ পদ ) । ইহা বে প্রকৃত ঘটনা নহে, বরং বানি-এছরাইলের জাতীয় জীবন ও জাতীয় মরণের কথাই যে, এখানে রূপক ভাবে বর্ণিত হইয়াছে, রাবীদিগের বর্ণিত বিহিস্কেল নবীর ভাবোক্তিতেও তাহা স্পষ্টতঃ প্রতিপন্ন হইয়াছে। ২৫৩ জেহাদে জীবন :– ব্যক্তিগণের মরণ বরণের উপর জাতির জীবন কিরূপে নির্ভর করিয়া থাকে, উপরে বানি এছরাইলের নজির উদ্ধত করিয়া তাহা দেখান হইতেছে । তাই এই অযুতে মুছলমানকে সাবধান করিয়া বলিয়া দেওয়া হইতেছে—সাধবান ! জেহাদ হইতে কখনই বিরত হইও না। অন্যথায়'জাতির হিসাবে তোমাদের মরণ নিশ্চিত । ২৫৪ তমাল্লাহকে ‘করজ’ দেওয়া ঃ– • ধাতুগত হিসাবে করজ’ শব্দের অর্থ কৰ্ত্তন করা। কৰ্ত্তন করার যন্ত্র বলিয়া কাপ্পুচিকে মেক্‌রাজ বলা হয়। কোন বস্তুকে কৰ্ত্তন করিলে তাহ অংশে অংশে বিভক্ত হইয়া যায়, এই হিসাবে এক একটা অংশকেও করজ বলা হয়। মহিষ নিজের সম্পদের এক অংশ অন্যকে ঋণদান করে বলিয়া, ভাবার্থে ঋণকেও কর্জ বলা হয়। কিন্তু ঋণ উহার মৌলিক অর্থ নহে, একমাত্র ভাবার্থও নহে। যেমন নিজসম্প্রদের এক অংশ কাটিয়া লইয়া অন্তকে ঋণদান করিলে তাহাকে করজ বলা হয়, সেইরূপ তাহার কোন অংশ কোন সৎকার্য্যে ব্যয় করিলে তাহাকেও করজ বলা হয়। আবার যে কাজের ফল উত্তম, তাহাকে উত্তম করুজ এবং যে কাজের ফল মন্দ, তাহাকে মন্দ করজ বলা হইয়া থাকে (জওহরী, তাজ, রাগের, কবির ) । ফলতঃ ਜਿਬ নিজের আর্থিক সম্পদের বা শারীরিক ও মানসিক শক্তির যে কোন অংশ কোন কাৰ্য্যে ব্যয় করে, অররী তাহাকে করজ’ বলা হয় । সুতরাং আল্লাহকে করঞ্জ দেওয়ার অর্থ—আল্লার নিৰ্দ্ধারিত কার্য্যে নিজের শক্তি ও সম্পদের এক অংশ ব্যয় করা। যে কর্থের দ্বারা উত্তম ফল লাভ করা যায়, তাহাই উত্তম কাজ । উপরের আয়তে জেহাদের আদেশ দেওয়া হইয়াছে, কিন্তু এই শ্রেণীর করজ’ ব্যতীত তাহা সম্ভবপর হইতে পারে না। বিশেষতঃ জেহাদকে সফল করিতে হইলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের দরকার। জেহাদের আদেশের সঙ্গে সঙ্গে তাহার জন্য অর্থব্যয় করিতে মুছলমানকে উৎসাহিত করা হইতেছে। ব্যক্তিগণ জেহাদের জন্য যে অর্থব্যয় করে, তাহ নষ্ট হইয়া যায় না। বরং আল্লাহ তাহাকে বহুগুণে বদ্ধিত করিয়া আবার তাহাদিগকে তাহ ফিরাইয় দেন। শেষভাগে বলা হইতেছে—অবস্থা অসচ্ছল বলিয়া, বা দরিদ্র হইয়া যাইব

  • ইজকেল নবীর এই সকল বিবরণের বিস্তৃত আলোচনা ৩৪ কুকুর তফছিরে দ্রষ্টব্য।