পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/৪৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২য় ছুর ৩৮শ রুকু ] পূৰ্ব্বে গৃহীত স্মদের ব্যবস্থা o 83) সমস্তার উত্তর হইতেছে না, বরং তাহাম্বারা ঐ সমস্তাটা আরও দৃঢ়স্কপে প্রতিষ্ঠিত হইয়। যাইতেছে । - অন্ত পক্ষ দেখাইতে চাহিয়াছিল যে, সুদ ও ব্যবসায়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই । সুতরাং ব্যবসায়কে হালাল বলিলেই যুক্তির হিসাবে সুদকেও হালাল বলিতে হইবে । অথচ মুছলমানেরা বলিতেছে যে, আল্লাহ সুদকে হারাম করিয়া ও ব্যবসায়কে হালাল করিয়া দিয়াছেন । তাহা হইলেই দেখা যাইতেছে যে, আল্লার কাজ অযৌক্তিক, সুতরাং অন্যায় । অন্যায় কাজ আল্লার দ্বারা সম্পন্ন হইতে পারে না, সুতরাং “তিনি সুদকে হারাম করিয়াছেন” -এই উক্তি বিশ্বাসের অযোগ্য। আমাদের সাধারণ তফছিরকারগণ এই যুক্তির বিরুদ্ধে যাহা বলিয়াছেন, তাহার সার এই যে, আল্লার কাজে আবার স্তায় অন্তায় কি আছে। স্বদ ও ব্যবসায় উভয় সমান, স্বীকার করি। কিন্তু আল্লাহ যখন দুইটা সমান বিষয় সম্বন্ধে টুইটা অসমান বা বিপরীত আদেশ দিয়াছেন, তখন তাহাঁই ন্যায় হইয়া যাইবে । সাধারণ মত ইহা হইলেও, অল্পসংখ্যক তফছিরকার স্বীকার করিয়াছেন যে, আলোচ্য উদ্ধৃতাংশ দুইটাই কাফেরদিগের উক্তি—তাহদের উপস্থাপিত-সমস্ত। এই সমস্তার উত্তরে কোরআন বলিয়া দিতেছে—এই সমস্ত উপস্থাপিত করা তাহদের জ্ঞানের বিকার ও বিচার বুদ্ধিহীনতার ফল । এই প্রকার বিকারগ্রস্ত না হইলে তাহীদের বিচার বুদ্ধি তাহাদিগকে বলিয়া দিত যে, বস্বতঃ সুদ ও ব্যবসায় স্বরূপতঃ সমান কখনই নহে, বরং পরস্পর বিপরীত । এই বিচার বুদ্ধির আশ্রয় লইয়া আলোচনায় প্রবৃত্ত হইলে, আমরাও সুদ ও ব্যবসায়ের পার্থক্য সম্যকভাবে বুঝিতে পারিব। ব্যবসায়ে, মূলধনের মালিক যেমন লাভের অংশ পাঃ অন্য যাহারা সেই মূলধনকে খাটায় বা তাহার সংশ্রবে খাটে, যাহার ক্রয় বা বিক্রয় করে, তাহারা সকলেও তাহাদ্বারা অল্পবিস্তর উপকৃত হইয়া থাকে । কিন্তু সুদের ব্যাপারে সমস্ত উপকার লাভ করে মহাজন, এবং খাতক কেবলই ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া থাকে । ব্যবসায়ে অবলম্বিত হয় ধনের নিস্কেন্দ্রীকরণ নীতি, জাতি ইহাদ্বারা নানা স্থত্রে উপকৃত হয়—আর স্বদ জাতিকে নিঃস্ব করিয়া ব্যক্তি বিশেষের হাতে জাতীয় ধনকে কেন্দ্রীভূত করিয়া দেয় । ব্যবসায় জাতিকে কৰ্ম্মঠ, পরিশ্রমী ও উদার করিয়া তুলে,—সুদ মাতুবকে অলস, শ্রমকাতর ও হীনচেতা করিয়া দেয়। অধিকন্তু সুদ ধনীকে ক্রমশই অধীকতর ধনী এবং দরিদ্রকে ক্রমাগত অধিকতর দরিদ্র করিয়া দিতে থাকে, কিন্তু ব্যবসায়ে এ দোষ নাই । ফলতঃ এই শ্রেণীর পgর্থক্যগুলির জন্যই আল্লাহ ব্যবসায়কে হালাল ও সুদকে হারাম করিয়া দিয়াছেন । কিন্তু মানসিক বিকারের ফলে তাহারা এতদূর মুহমান হইয়া পড়িয়াছে যে, এই সহজ কথাগুলি হৃদয়ঙ্গম করাও তাহীদের পক্ষে সম্ভবপর হয় না। • ২৯৭ পূৰ্ব্বে গৃহীত স্থদের ব্যবস্থা — আয়তের এই অংশে বলা হইতেছে যে, স্বদের নিষেধাজ্ঞা অবগত হওয়ার পূৰ্ব্বে যে মুী @9