পাতা:কোরআন শরীফ (প্রথম খণ্ড) - মোহাম্মদ আকরম খাঁ.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


6ు. কোরআন শরীফ [ প্রথম পারা ও অসৎপথও তাঁহাকে দেখাইয়া দিয়াছেন।” (চুর বালদ—৮, ৯, ১৭ )। কিন্তু সত্য জ্ঞান . আঁহুরণের এই উপকরণগুলিকে অব্যবহার বা অপব্যবহারের ফলে মাহুষ যখন বিকৃত বা বিনষ্ট করিয়া ফেলে, তখন তাহার মনের কপাট চিরকালের তরে রুদ্ধ হইয়া যায় ; সুতরাং স্বর্গের আলোক সেখানে আর কোন মতেই প্রবেশ লাভ করিতে পারে না। ২৩ কপটদিগের দ্বিতীয় উপমা – . হজরত বলিতেছেন – أن مثل ما بعثنى اللـه عز رجل به من الهدى ر العلسم كمثـل غيبث - C - ۲۴۷ الحدیمشی مسلم ، ج ۲، ص অর্থাৎ—“আল্লাহ তাআলা যে আলোক ও প্রজ্ঞা দিয়া আমাকে অভু্যখিত করিয়াছেন—তাহ হইতেছে বৃষ্টিধারার স্বরূপ।” হজরতের মারফতে প্রকাশিত এই হেদায়ত ও প্রজ্ঞাকে এই আয়তেও বারিধারা বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। জলদপুঞ্জে বারিধারার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ অন্ধকার ও ভীষণ .বজনিনাদওঁ থাকে, তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তিগণ ইহা অবগত আছেন। সুতরাং বঞ্জ ও অন্ধকারের ভীতিকে অতিক্রম করিয়াই তাহারা শীতল নিৰ্ম্মল বারিধারা দ্বারা আত্মার পিপাসা নিবৃত্তি করিতে চান। আর পক্ষান্তরে কোন উচ্চ লক্ষ্য সম্মুখে না থাকায়ু, কপটের এ ক্ষেত্রে বিচলিত হইয়া পড়ে। দুনার নীচ স্বার্থ উদ্ধারের লালসায় তাহারা মুছলমানদের সঙ্গে যোগ . দিয়া থাকে। সুতরাং একটু অন্ধকারের সন্মুখীন হইলে তাহারা নিরাশ হইয় পড়ে, পরীক্ষার একটা বস্তু নিৰ্ঘোৰ শ্ৰবণ করিলে তাহদের কলিজা কঁপিয়া উঠে, বিপদের বস্তুপাতে এইবার বুকি মুছলমানদের সৰ্ব্বনাশ হইল—এই ভাবিয়া তাহারা মুছলমানদের সঙ্গ ত্যাগ করিয়া অমনি থমকিয়া দাড়ায়। কিন্তু সেই নিবিঢ় অন্ধকারের মধ্যে ক্ষণপ্রভার আলোকের মত ধেমনই আশার চপল চমকিয় উঠে, অমনি আবার অর্ণকু বাকু করিয়া তাহারা মুছলমানদের .সঙ্গ লইতে চায়। ফলতঃ পরীক্ষার সময় পিছাইয়া পড়া আর মুছলমান স্বরূপে লাভের ভাগ লইবার জন্য আগাইয়া আসা—ইহা হইতেছে কপটদিগের একটা বড় লক্ষণ । আয়তে উপমা দ্বারা এই লক্ষণটাকে পরিস্ফুট করা হইয়াছে। 鱷 এই শ্রেণীর সুবিধাবী মোছলেমরূপী কপটদিগের এই লক্ষণের কথা কোআনের আরও বহু স্থানে বিশদরূপে-বর্ণিত হইয়াছে। হজ্জ-ছুরায় তাহদের প্রসঙ্গে বলা হইয়াছে— “ইহাতে উপকার প্রাপ্ত হইলে সেই (পার্থিব) উপকারকে লইয়া সে তৃপ্ত হইয়া থাকে, কিন্তু (এপথে) পরীক্ষা উপস্থিত হইলে অমনি মুখ ফিরাইয়া সরিয়া পড়ে। (এই শ্রেণীর কপটদিগের ) ইহকাল পরকাল উভয়ই পগু হইয়া যায়—ইহাই হইতেছে চরম বিফলতা।” (১১)। কপুটদিগের এই সব লক্ষণ বর্তমান যুগের মোছলেম সমাজে কি পরিমাণে প্রবেশ করিমুছে চিন্তাশীল পাঠকগণ এখানে তাহ একবার ভাবিয়া দেখিলে বাধিত হইব। ছাম—শন্ধের আলোচনার জন্ত ৩য় রুকুর ২২ আয়তের টক দ্রষ্টব্য।