পাতা:কোরআন শরীফ - ভাই গিরিশচন্দ্র সেন.pdf/৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভূমিকা

 পৃথিবীর যাবতীয় সভ্য ভাষায় বাইবেল পুস্তক অনুবাদিত হইয়া সর্বত্র সকল জাতির মধ্যে প্রচার হওয়ায় সাধারণের পক্ষে তাহা যাহার পর নাই সুলভ হইয়াছে। তজ্জন্যই দেবাত্মা ঈসার দেবচরিত্র ও তাহার স্বর্গীয় জীবন-প্রদ উপদেশ সকল বাইবেলে সহজে পাঠ করিতে পারিয়া নানা দেশের নানা জাতীয় অগণ্য লোক আলোক ও জীবন লাভ করিয়াছে। কিন্তু বিধানমণ্ডলীভুক্ত ভূমণ্ডলের একটি প্রধান ও পরাক্রাস্ত জাতি মোসলমান, তাহদের মূল বিধান-পুস্তক কোরআন শরীফ শুদ্ধ তাঁহাদের মধ্যেই দুরূহ আরব্য ভাষারূপ দুর্ভেদ্য দুর্গের ভিতরে বদ্ধ রহিয়াছে। অন্য জাতির নিকট মোসলমানেরা কোরআন বিক্রয় পর্যন্ত করেন না, অপর লোকে তাহ পড়িবে দূরে থাকুক স্পর্শ করিতেও পায় না। অন্য জাতির মধ্যে আরব্য ভাষার চর্চাও বিরল। কেহ কোরআন হস্তগত করিতে পারিলেও ভাষাজ্ঞানের অভাবে তাহার মর্ম কিছুই অবধারণ করিতে সমর্থ হয় না। সুতরাং ইহা কতিপয় মোসলমান মৌলবীর একচেটিয়া সম্পত্তি হইয়া রহিয়াছে। মৌলবী শাহ্র ফিয়োদ্দীন উর্দু ভাষায় এবং শাহ্ আলী আল্লাহ্ ফতেহোর রহমান নামে পারস্য ভাষায় কোরআনের অনুবাদ করিয়া প্রচার করিয়াছেন; কিন্তু তাহা মূল পুস্তকের সঙ্গে একত্র সংবদ্ধ আছে, স্বতন্ত্র পুস্তকাকারে পাওয়া যায় না। সেই অনুবাদিত পুস্তকদ্বয় স্বপ্রাপ্য হইলেও উর্দু ও পারস্য ভাষানভিজ্ঞ বাঙ্গালীর পক্ষে তাহা অন্ধজনের পক্ষে দর্পণের ন্যায় নিষ্ফল। ইংরাজী ভাষায় কোরআনের অনুবাদ প্রচার হইয়াছে সত্য; কিন্তু এ-দেশে তাহা সচরাচর প্রাপ্য নহে। অপিচ যাহারা ইংরাজী জানেন না তাঁহাদের পক্ষে উহা প্রাপ্ত হওয়া না হওয়া তুল্য। আমি আরব্য ভাষা শিক্ষায় প্রবৃত্ত্ব হইলে অনেক বন্ধু বঙ্গভাষায় মূল কোরআন অনুবাদ করিয়া প্রচার করিতে আমাকে অনুরোধ করেন, এ বিষয়ে আমি কোন কোন মোসলমান বন্ধু কর্তৃকও বিশেষরূপে অনুরুদ্ধ হই। কোরআন অধ্যয়ন ও তাহা অনুবাদ করাই আরব্য-ভাষা শিক্ষায় প্রবৃত্ত হওয়ার আমার প্রধান উদ্দেশ্য। বন্ধুদিগের আগ্রহে ও স্বীয় কর্তব্যানুরোধে ঈশ্বর কৃপায় আমি এক্ষণ কোরআন বঙ্গভাষায় অনুবাদ করিয়া প্রকটন করিয়াছি

 যাহাতে কোরআনের মূল ‘‘আয়ত” (প্রবচন) সকলের অবিকল অনুবাদ হয়, তদ্বিষয়ে যথোচিত যত্ন করা হইয়াছে। তদনুরোধে বঙ্গ ভাষার লালিত্য রক্ষার প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখিতে পারা যায় নাই। কিন্তু আরব্য-ভাষার প্রণালী বঙ্গীয়-ভাষার প্রণালীর সম্পূর্ণ বিপরীত। বাঙ্গলা বাম দিক হইতে লিখিত হইয়া থাকে, আরবী ঠিক তাহার বিপরীত দক্ষিণ দিক্ হইতে লিখিত হয়। বচন-