পাতা:ক্রমশ ফসিলের মত একটা শব্দ.pdf/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিদেশী মানুষ আমি তোমাদের দেশে একান্তই নিঃসঙ্গ বিদেশী মানুষ অামার শিরায় আজ একবিন্দুও নীলরক্ত নেই – অামি কেমন ক’রে রক্তের সম্পর্ক প্রমাণ ক’রবো, ভাই ? এই অজানা নিশ্চিন্ত পৃথিবীর বাতাসে অনেক চেষ্টা করেও চোপসানো ফুসফুস দুটোকে ফঁাপিয়ে ফাতুস ক’রতে পারিনি কারণ অজস্র জটিলতা সেখানে জাফরি বসিয়ে দিয়েছে । অামার চোখের তারা মরামাছের মতো অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে তোমাদের কোনো যন্ত্রণয় কঁদিলে ও অাজ এক ফোটাও জল পড়ে না । আমি পুরোনো দড়ির মতো ধুলোটে দেহটাকে রঙ ফিরিয়ে ফিরিয়ে তোমাদের সঙ্গে ডানার শবদঝরা বিকেলে নিজস্ব ঘরে ফেরাতে পারিনা – আমার ইচ্ছের এখন অজগরের মতো বিছোনো পথে ধুকতে ধুকতে হঁটে, আর বিষাক্ত সন্দেহের বাঁক ঝাক তীর চতুর্দিক থেকে মনের ওপর ক্রমাগতই বাঁপিয়ে পড়ে । এই পরিশ্রাস্ত পথিকের ঘাম ঝ’রে ঝ’রে যখন সীমাহীন রাস্তার কাদা বেড়ে যায়, এই অবাস্তব মানুষটার বাগানে যখন কাঠঠোকরার ঠকৃঠকৃ ঠোঁট ঠোকে, এই উদাসীন লোকটার টালির চালের বাতায় যখন সাপেরা নিশ্চিস্তে খোলস ছেড়ে যায় – তখন একটা শিশুও ভালো ব’লতে পারে কোন দুদর্শস্ত দেশের নাগরিকতা অজ’ন ক’রেছি আমি । তাই আমার বুকের মধ্যে আজ আর কোনো থেতলানো আত্মা নেই, একটা জংধরা জড়দগব মান্ধাতা আমলের দেরাজ আছে শুধু – যেখানে ঘেষের মতো গুড়িয়ে যাওয়া ভালোবাসাগুলোকে আমি সোনার ধুলোর মতো বুরুশে ক’রে পথ থেকে তুলে তুলে রেখেছি। আমার মায়ের গর্ভ থেকে যে-মুহূর্তে এই যান্ত্রিক মাটিকে স্পর্শ করেছি সেই মুহূর্ত থেকেই আমি তোমাদের দেশে একান্তই নিঃসঙ্গ বিদেশী মানুষ । তবুও আমারও একটা স্বদেশ আছে – যেখানে আমার অতিবৃদ্ধ পিতা এই ভবঘুরে ছেলেটার শেষবার শেষরাজিতে ঘরে ফেরার জন্যে জেগে আছে। ఏ