পাতা:খুনী কে - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩০

দারোগার দপ্তর, ১৬৫ সংখ্যা।


পরামর্শ করিলাম। আমরা সর্ব্বশুদ্ধ ছয় জন ছিলাম, কিন্তু পাছে সফল না হই, এই নিমিত্ত আরও জন কয়েক লোক সংগ্রহ করিলাম। রাত্রি নয়টার পর আমরা সেই অর্থ লাভ করিলাম। যাহাদিগকে আমাদের সাহায্যের জন্য সংগ্রহ করিয়াছিলাম, তাহাদিগকে পুরস্কার দিয়া বিদায় করিলাম এবং অবশিষ্ট সমস্ত অর্থ আমাদের বাসায় লইয়া আসিলাম। অংশ লইয়া কথায় কথায় দামোদরের সহিত আমার বিবাদ হয়। আমার ভয়ানক রাগ হইয়াছিল, আমি দামোদরকে হত্যা করিতে এক লাঠি তুলিলাম। কিন্তু দামোদর আমার হাতে লাঠি দেখিয়া সম্পূর্ণ বশীভূত হইল এবং আমি যাহা দিলাম, তাহাতে বাহ্যিক সন্তুষ্ট হইয়া দল ছাড়িয়া প্রস্থান করিল। আমার অবশিষ্ট সঙ্গিগণ যথেষ্ট টাকা পাইয়া স্ব স্ব স্থানে প্রস্থান করিল। আমিও এই জমীদারী কিনিয়া এখানে বাস করিতে লাগিলাম। এই জমীদারীর আয় সামান্য নহে। বাৎসরিক ছয় হাজার টাকা হইবে। এত টাকার মালিক হওয়ায় আমার বিবাহ করিতে ইচ্ছা হইল। আমি বিবাহ করিলাম এবং তিন বৎসর একরূপ নির্ব্বিবাদে সংসার-যাত্রা নির্ব্বাহ করিলাম। বিবাহের তিন বৎসর পরে অমলার জন্ম হয়। অমলার বয়স যখন এক বৎসর, তখন তাহার মাতার মৃত্যু হয়। আমি অধিক বয়সে বিবাহ করিয়াছিলাম, সুতরাং আমার আর দ্বিতীয় বার বিবাহ করিবার ইচ্ছা ছিল না; অমলাকে নিজেই মানুষ করিতে লাগিলাম। অমলার বয়স যখন সাত বৎসর, তখন আমি একদিন হাট হইতে বাড়ী ফিরিতেছি, এমন সময়ে দামোরের সহিত সাক্ষাৎ হয়। দামোদরের পরিধানে একখানি ছেঁড়া কাপড়, পায়ে জুতা নাই, গায়ে জমা নাই, একখানি ছেঁড়া