পাতা:খুনী কে - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩২

দারোগার দপ্তর, ১৬৫ সংখ্যা।


পূর্ব্ব অপরাধ কি ভুলিয়া গিয়াছ? লোকে জানিলে কি হইবে, একবার ভাবিয়া দেখ?’ আমি বলিলাম, ‘বারম্বার একই কথায় আর আমার ভয় নাই। তুমি যাহা ইচ্ছা করিতে পার। কিন্তু ইহা স্থির জানিও যে, তোমার পুত্রের সহিত আমার কন্যার বিবাহ অসম্ভব।’ এইরূপ বিবাদ চলিতেছিল। দামোদরের সহিত দেখা হইলেই সে ঐ কথা উত্থাপন করে দেখিয়া, আমি আর তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতাম না। গত জ্যৈষ্ঠ মাহার তেস্‌রা দামোদর যখন শীকার করিতে যায়, আমি দেখিয়াছিলাম। দামোদরের উপর আমার বড় রাগ ছিল। তাহাকে একেবারে হত্যা করিতে না পারিলে আমার আর নিষ্কৃতি নাই দেখিয়া, আমি তাহাকে খুন করিতে মনস্থ করিলাম এবং সেই জন্য ঐ কার্য্যের উপযোগী একগাছি লাঠি লইয়া দামোদর যে জলার ধারে শীকার করিতে গিয়াছে, সেই স্থানে উপস্থিত হইলাম। যখন আমি জলার ধারে যাই, দেখিলাম—পিতা পুত্রে বিবাদ হইতেছে। আমি গোপনে তাহদের বিবাদের কারণ জানিতে পারিলাম। পুত্রের বিবাহে আদৌ ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু পিতা অমলার সহিত তাহার বিবাহ দিবার জন্য জেদ করিতেছিল। দামোদরের উদ্দেশ্য এই যে, তাঁহার পুত্র অমলাকে বিবাহ করিলে সেই এক সময়ে আমার সমস্ত বিষয়ের উত্তরাধিকারী হইবে। দামোদরের পরামর্শ শুনিয়া, আমার ভয়ানক ক্রোধ হইল, রাগে সর্ব্ব শরীর জ্বলিয়া উঠিল। দেখিলাম, যতীন্দ্র দামোদরের নিকট হইতে চলিয়া গেল। আমি তখন পা টিপিয়া টিপিয়া দামোদরের পশ্চাতে যাইলাম এবং সেই লাঠির দ্বার সজোরে তাহার মাথায় আঘাত করিলাম। দামোদর চীৎকার করিয়া অজ্ঞান হইয়া পড়িল, আমিও পলায়ন করিলাম। বাড়ী