বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।

 যেমন শায়িত অবস্থায় ছিলাম, এতক্ষণ সেইরূপই থাকিতে হইল, ইহাতে যে আমার খুবই যন্ত্রণা হইতেছিল, তাহা বলাই বাহুল্য। এখন এই বন্ধন-দশা হইতে মুক্ত হইবার চেষ্টা করিতে লাগিলাম। যে সব দড়ি-দড়া ও খোঁটার সাহায্যে আমার বাম হাত মাটীতে বন্ধ ছিল, প্রথমে সেইগুলি ছিঁড়িয়া ও উপড়াইয়া ফেলিলাম। তারপর আর একবার একটু টানাটানির ফলে কিছু আঘাত লাগিল বটে, তথাপি মাথার বাম অংশের চুলগুলা বন্ধন হইতে মুক্ত হইল। এই ভাবে আমি যেন মাথাটা ইঞ্চি দুই ঘুরাইতে ফিরাইতে সমর্থ হইলাম।

 এইবার তাহাদের মধ্যে কয়েকটাকে ধরিবার চেষ্টা করিলাম; সকলেই পলাইয়া গেল, একটিকেও ধরিতে পারিলাম না। ইহাতে তাহাদের মধ্যে মহা আনন্দের কোলাহল পড়িয়া গেল! কোলাহল থামিয়া গেলে, শুনিলাম, একজন চীৎকার করিয়া বলিল, “টল্‌গো ফন্যাক্।” সঙ্গে সঙ্গে প্রায় একশতটা তীর আমার বাম অঙ্গে আসিয়া পড়িল, ঠিক যেন এক একটা ছূঁচ বিঁধিতে লাগিল! তা ছাড়া তাহারা শূন্যেও অসংখ্য তীর ছুড়িতে লাগিল। তাহার মধ্যে অনেক গুলা হয় ত আমার গায়েও পড়িয়া থাকিবে, আমি টের পাই নাই; কতকগুলা আমার মুখের উপর পড়িতে লাগিল; দেখিয়া, আমি বাম হাত দিয়া মুখ ঢাকিয়া রাখিলাম।