এই বাণ-বৃষ্টির পর আমার যন্ত্রণার বৃদ্ধি হইল; তখন মুক্ত হইবার জন্য আর একবার চেষ্টা করিলাম। ফলে, প্রথমবারের অপেক্ষা ভীষণতর বাণবৃষ্টি আর একবার হইল! বেশীর ভাগ, কয়েকজন বর্শা আনিয়া আমার পাশে খুঁচাইতে চেষ্টা করিল। সৌভাগ্যের কথা যে, মোটা চামড়ার একটা কোট গায়ে পরা ছিল, সেজন্য বর্শার আঘাত লাগিল না।
তখন ভাবিলাম, এইভাবে রাত্রি পর্য্যন্ত চুপ করিয়া শুইয়া থাকাই সর্ব্বাপেক্ষা নিরাপদ; বাম হস্ত ত মুক্ত থাকিল,; রাত্রি হইলে, অন্ধকারের সুযোগে, সহজেই নিজকে সম্পূর্ণ মুক্ত করিয়া লইতে পারিব। একবার মুক্তি পাইলে, এদেশের লোকদিগকে ভয় করিবার বিশেষ কোনও কারণ থাকিবে না; কেন না, যাহাকে নমুনাস্বরূপ দেখিলাম, সকলেই যদি উহারই মত হয়, তবে ওরূপ সহস্রটাও একসঙ্গে আসিলে আমার কিছুই করিতে পারিবে না,—মনে মনে এ ভরসা খুবই ছিল।
যখন লোকগুলা দেখিল, আমি নিশ্চেষ্ট ভাবে পড়িয়া আছি, তখন তাহারা আর আমাকে উত্যক্ত করিল না। কিন্তু আমার চারিপাশে যেরূপ কলরব হইতে লাগিল, তাহা হইতে অনুমান করিলাম, বহুসংখ্যক লোকই সমবেত হইয়াছে। যেখানে আমি শুইয়াছিলাম, সেখান হইতে আন্দাজ ৪ ফুট দূরে, আমার ডান কাণের খুবই কাছে, ঘণ্টা খানেক