বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ।

দেখিতে দেখিতে তাহাদের মধ্যে একজন সেই মঞ্চে উঠিয়া, আমাকে শুনাইয়া খুব একটা প্রকাণ্ড গোছের বক্তৃতা জুড়িয়া দিল। তাহাকে দেখিলে বোধ হয়, সে ঐ দেশের একজন উঁচুদরেরই লোক হইবে। বক্তৃতার বিন্দুবিসর্গও আমি বুঝিতে পারিলাম না বটে, কিন্তু বক্তৃতা আরম্ভ করিবার আগে তিনবার যে “ল্যাংগ্রো ডেহুল স্যান্” বলিয়া চীৎকার করিয়াছিল, তাহাতেই আমার যথেষ্ট উপকার হইল। কারণ, ঐ চীৎকার শুনিবামাত্র, প্রায় পঞ্চাশজন আসিয়া, আমার দেহের বাম ভাগের সকল বন্ধন কাটিয়া দিল। তখন আমি কতকটা স্বচ্ছন্দে ডান দিকে ফিরিয়া, বক্তার দেহ ও বক্তৃতার ভাবভঙ্গী দেখিতে পারিলাম।

 বক্তা মধ্যবয়স্ক এবং তাহার অনুচর তিনজনের অপেক্ষা কিছু দীর্ঘাক্বতি। তিনজনের মধ্যে একজন বক্তার পরিচ্ছদবাহী; অপর দুইজন বক্তার পার্শ্বচর। বলিবার ভাবভঙ্গী দেখিলে, তাহাকে বক্তা বলিতেই ইচ্ছা হয় বটে। বক্তৃতায় কোথাও বা আমায় কতমতে ভয় প্রদর্শন; কোথাও আমার নিকট কত প্রকারের অঙ্গীকার; কোথাও বা আমায় অনুগ্রহ ও দয়া প্রকাশ করা হইল! আমি ত বিন্দুবিসর্গও