বুঝিতে পারিলাম না; কেবল নির্ব্বাক্ হইয়া দেখিতে ও শুনিতে লাগিলাম। বক্তৃতার অবসান হইলে, আমি অল্প কথায় তাহার উত্তর দিলাম। আমার কথায়, ভাবভঙ্গীতে যতদূর পারিলাম বিনয় ও বশ্যতা প্রকাশ করিলাম; আর, আমি যে বড়ই ক্ষুধার্ত্ত, ইহা বিশেষ ভাবে জানাইবার জন্য বারংবার মুখের দিকে অঙ্গুলি দিয়া দেখাইতে লাগিলাম।
হার্গো (পরিশেষে শিখিয়াছিলাম, উচ্চপদস্থ লোককে ঐ দেশে “হার্গো” বলিয়া থাকে) আমার অভাব বুঝিতে পারিলেন। মঞ্চ হইতে নামিয়াই তিনি আদেশ দিলেন, যে অনেকগুলা সিঁড়ি আমার গাত্রে লাগান হউক। অবিলম্বে সিঁড়িগুলা বহিয়া, প্রায় একশত জন আমার মুখের দিকে অগ্রসর হইল। তাহাদের প্রত্যেকের হাতে মাংস ও অন্যান্য খাদ্যে পূর্ণ ঝুড়ি। মাংস নানাপ্রকার প্রাণীর বলিয়াই বোধ হইল; কিন্তু কোন্টা কোন্ জন্তুর মাংস তাহা আস্বাদে বুঝিতে পারিলাম না। রন্ধনও বেশ ভালই হইয়াছিল। মাংসের টুক্রাগুলা একটা ছোট মাছির ডানার চেয়েও ছোট, কাজেই এক এক গ্রাসে সেরূপ মাংসের টুকরা দশ পনের খানি করিয়া খাইতে লাগিলাম; রুটীগুলাও দেখিতে একটা একটা মাঝারী গোছের মটরের চেয়ে বড় নহে, কাজেই রুটীও ঐ সঙ্গে পাঁচ সাত খানা করিয়া এক একবারে মুখে পুরিতে লাগিলাম।