বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।
১৯

অবস্থাতেই আমাকে বাঁধিয়া ফেলা হয় এবং শুধু তাই নহে, আমাকে রাজধানীতে আনিবার জন্য একটা যন্ত্র নির্মাণেরও আয়োজন করা হয়। রাজা এরূপ আদেশ দিয়া অতি সাহসের পরিচয় দিয়াছিলেন! সে সময় হঠাৎ আমি জাগিয়া উঠিলে, যাহারা আমাকে বাঁধিতে ‘আসিয়াছিল, তাহাদের কাহাকেও আর প্রাণ লইয়া ফিরিতে হইত না, ইহা নিশ্চিত।

 অঙ্কশাস্ত্রে ইহাদের বিলক্ষণ ব্যুৎপত্তি ছিল, এবং রাজার সাহায্যে ও উৎসাহে ইহারা যন্ত্রপাতি নির্ম্মাণেও খুব উন্নতি লাভ করিয়াছিল। রাজা খুব বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। বড় বড় গাছ বা এরূপ ভারী দ্রব্য স্থানান্তর করিবার জন্য নানাবিধ যন্ত্র সর্ব্বদাই প্রাসাদে প্রস্তুত থাকিত। রাজা কখনও কখনও বনে গাছ কাটাইয়া, সেই খানেই বৃহৎ বৃহৎ যুদ্ধ জাহাজ প্রস্তুত করাইতেন। তাহাদের মধ্যে কোন কোনগুলি ৯ ফিট্‌ পর্যন্ত লম্বা! এই সমস্ত যন্ত্রের সাহায্যে সেই জাহাজগুলি জলে ভাসাইতে কোনই অসুবিধা হইত না; কিন্তু আমাকে বহন করিয়া লইয়া যাইবার জন্য যে যন্ত্র নির্ম্মিত হইল, তাহার অপেক্ষা বড় যন্ত্র প্রাসাদে ছিল না; এবং তাহা নির্ম্মাণ করিতে ৫০০ সূত্রধর ও অন্যান্য শিল্পী নিযুক্ত হইয়াছিল। এই যন্ত্রটী ৭ ফিট্‌ লম্বা, ৪ ফিট্‌ চওড়া একটী কাঠের ফ্রেম