বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।

মাটী হইতে ৩ ইঞ্চি উঁচু এবং তাহার নীচে ২২ খানি চাকা। যখন এই কল আসিয়া পৌঁছিল, তখন সকলেই আনন্দে চীৎকার করিয়া উঠিয়াছিল। যন্ত্রটীকে আমার ঠিক পাশেই আনা হইল।

 তিন ঘণ্টা অবিশ্রান্ত পরিশ্রমের পর, নয় শত বলিষ্ঠ লোক, বিস্তর কপিকল ও দড়াদড়ির (অবশ্য সে দেশের লোকের শক্তির অনুযায়ী কপিকল ও দড়াদড়ি!) সাহায্যে আমাকে সেই রথে তুলিল; এবং রাজার অশ্বশালার বাছা বাছা দেড় হাজার—প্রত্যেকটা প্রায় ৫ ইঞ্চি করিয়। উঁচু—ঘোড়া সেই রথ টানিতে লাগিল। আমি এরূপ গাঢ় নিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিলাম যে এ সকল কিছুই টের পাই নাই; হয় ত রাজধানীতে পৌঁছান পর্য্যন্ত কিছু টের পাইতাম না। কিন্তু পথিমধ্যে রথ সামান্য একটু বিকল হইয়া যাওয়ায় থামিতে বাধ্য হয়; সেই সময় কৌতূহলপরবশ হইয়া দুই চারিজন সাধারণ লোক রথে চড়িয়া আমায় দেখিতে লাগিল। তাহাদের মধ্যে একজনের হাতে একটা দীর্ঘ বর্শা ছিল; তাহার কেমন খেয়াল চাপিল, সেই বর্শাটা আমার নাকের মধ্যে চালাইয়া দিল। নাকে কাটি দিলে আমাদের সাধারণতঃ যেরূপ সুড়্‌সুড়ি লাগে ও আমরা যেন হাঁচি, আমার সেই ভাবে সুড়্‌সুড়ি লাগিয়া হাঁচি আসিল, আমি জাগিয়া উঠিলাম।