বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।
২৫

 রাজা যখন ঘোড়ায় চড়িয়া আমার দিকে আসিতেছিলেন, তখন রাণী এবং রাজকুমার ও রাজকুমারীগণ কিছু দূরে চেয়ারে বসিয়াছিলেন; কিন্তু রাজার ঘোড়া যখন চঞ্চল হইয়া তাঁহার জীবন বিপদাপন্ন করিল, তখন সকলেই শশব্যস্তে রাজার নিকট উপস্থিত হইলেন।

 পাঠকের কৌতূহল চরিতার্থ করিবার জন্য আমি রাজ-পরিবারের কতক বর্ণনা করিব।

 রাজা দীর্ঘাকৃতি পুরুষ, অর্থাৎ সে দেশের লোকের সাধারণ আকৃতির হিসাবে তিনি দীর্ঘাকৃতি; কারণ তাঁহার যে কোনও পারিষদের অপেক্ষা তাঁহার দৈর্ঘ্য, আমার নখ যত চওড়া, ততটা অধিক; কাজেই, তাঁহাকে দেখিলেই তাঁহার প্রজাবৃন্দের মনে ভীতির সঞ্চার হয়। তাঁহার গঠন বলিষ্ঠ, নাসিকা বক্র, অঙ্গপ্রত্যঙ্গাদি সৌষ্ঠবপূর্ণ, দেখিলেই তাঁহাকে “সম্রাট্” বলিয়া বোধ হয়। তিনি একুশ বৎসর বয়সে রাজ্যভার গ্রহণ করিয়া সুখে সাত বৎসর যাবৎ রাজত্ব করিতেছেন। যুদ্ধ-বিগ্রহে তিনি বড়ই সৌভাগ্যবান্ পুরুষ, সকল যুদ্ধেই তিনি জয়লাভ করিতেন। তাঁহার পরিচ্ছদের আড়ম্বর বা পরিপাটি কিছুমাত্র ছিল না। পোষাকের ভাব—কতকটা এসিয়াবাসীদের, কতকটা ইউরোপবাসীদের মতন। মস্তকে মণিখচিত স্বর্ণ-শিরস্ত্রাণ, ও হস্তে নিষ্কাশিত অসি।