বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।

অপর পাঁচটিকেও পকেট হইতে বাহির করিয়া ঐভাবে মুক্তি দিলাম। আমার দয়া দেখিয়া সকলেই আনন্দিত হইল, এবং আমার বিস্তর সুখ্যাতি করিয়া এ ঘটনা সম্রাটের কর্ণগোচর করিল।

 রাত্রিকালে আমি কোনও গতিকে আমার বাসগৃহে প্রবেশ করিয়া শুইয়া থাকিতাম। মেঝে পাথরের; তাহাতে আমার কষ্ট হইত। কিন্তু সম্রাট এরূপ দয়াবান্ যে, বোধ হয় তাহা বুঝিতে পারিয়াই আমার জন্য শয্যা, আস্তরণ প্রভৃতি নির্ম্মাণ করিতে আদেশ দিলেন; যথাকালে সেগুলি প্রস্তুত হইয়া আমার ব্যবহারে আসিল।

 আমার আগমনবার্ত্তা দেশমধ্যে যতই প্রচারিত হইতে লাগিল, ততই ছোট বড়, ধনী নির্ধন সকলেই দলে দলে আমাকে দেখিতে আসিতে লাগিল। লোকের আমাকে দেখিয়া দেখিয়া আকাঙ্ক্ষা মিটিত না। সে কারণে রাজধানীতে অসম্ভব লোক সমাগম হইতে লাগিল; আর বোধ হয়, পল্লীগ্রামে চাষ-বাস এবং গৃহস্থালী কার্য্যেরও অনেক ক্ষতি হইতে লাগিল। অবশেষে সম্রাট এই পরোয়ানা বাহির করিলেন যে, যাহারা আমাকে একবার দেখিয়াছে, তাহাদিগকে অবিলম্বে গৃহে ফিরিতে হইবে; এবং তাঁহার বিশেষ অনুমতি ব্যতীত কেহই আমার বাসস্থানের ১০০ হস্তের মধ্যে আসিতে পাইবে না।