বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩২
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।

হইত। আমার পকেটে রুমাল, একখানা ক্ষুর ও একখানা মাংস কাটিবার ছুরি ছিল, সেগুলির সম্বন্ধে কর্ম্মচারী দুই জনের বিশেষ কোনও সন্দেহ হয় নাই। অবশেষে তাঁহারা আমার নস্যদানিটায় উপস্থিত হইলেন। বীরপুরুষ-দ্বয়ের মস্তকে হঠাৎ কি একটা সন্দেহ প্রবেশ করিল, সেই প্রকাণ্ড ‘রৌপ্য-সিন্দুকটি’ খুলিতে তাঁহারা বিস্তর চেষ্টা করিলেন; কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য্য না হইয়া, শেষে সেটী খুলিয়া দিবার জন্য আমাকে অনুরোধ করিলেন। তাঁহাদের নিতান্তই কুগ্রহ! তাই সেই “সিন্দুকের” মধ্যে সশরীরে প্রবেশ করিয়া “খানা তল্লাস” করার আগ্রহ দেখাইলেন! আমি এক এক জনকে ধরিয়া যেমন নামাইয়া দিয়াছি, অমনি তাঁহাদের দেহের অর্দ্ধেকেরও অধিক ভাগ নস্যে মগ্ন হইল, এবং চারিদিকে নস্য উড়িতে লাগিল। সেই ঝাঁঝে বেচারাদের হাঁচিতে হাঁচিতে জীবন অবসন্নপ্রায় হইয়া আসিল! তারপর আমার দিনের “রোজনামচা বহি” লইয়া পড়িলেন। উল্‌টাইয়া পাল্‌টাইয়া কতমতে দেখিলেন; অবশেষে প্রত্যেক অক্ষরটি যখন তাঁহাদের হাতের তেলোর মত লম্বা বলিয়া মনে হইল, তখন নিতান্তই একটা অস্বাভাবিক আওয়াজ করিয়া তাহা ছাড়িয়া দিলেন! তারপর আমার চিরুণির পালা। আগেই বলিয়াছি, এদেশের লোকদের সহজ বুদ্ধিটা খুব প্রবল; চিরুণীটা দেখিয়াই বুঝিতে