পারিলেন, ইহাতে মাথা আঁচড়াই; অতএব ইহা নির্দ্দোষ। তারপর দুইটা পকেট-পিস্তল বাহির হইল। কর্ম্মচারীরা এগুলিকে “ফাঁপা লোহার থাম” বলিয়া রিপোর্ট দিয়াছিলেন; কিন্তু সম্রাটের বিশেষ কৌতূহল হওয়ায়, তিনি আমায় এগুলির ব্যবহার দেখাইয়া দিতে বলিলেন। আমি তাঁহাকে সাবধান হইতে বলিয়া ও সম্পূর্ণ অভয় দিয়া, একটা ফাঁকা আওয়াজ মাত্র করিলাম। রাজ্যমধ্যে কি একটা হুলস্থুলই না পড়িয়া গেল! কতশত ব্যক্তি শব্দ মাত্রেই মৃতবৎ ভূপতিত হইল! সম্রাটেরও বিভীষিকার অপনোদন হইতে কিছুক্ষণ লাগিয়াছিল! আমার পকেটে স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র-—সকল প্রকার মুদ্রাই ছিল। সেগুলি লইয়া গেলেও সে অবস্থার আমার কিছুমাত্র ক্ষতিবোধ হইত না। মুদ্রাগুলি—বিশেষতঃ স্বর্ণমুদ্রাগুলি দেখিয়া তাঁহাদের আমোদের সীমা রহিল না; রৌপ্যমুদ্রা গুলি এত বড় যে, একজনে একটি তুলিতে পারিলেন না। স্বর্ণমুদ্রাগুলিও তাঁহাদের এক একজনের মস্তকের ন্যায় সু-বৃহৎ! আমার সঙ্গে বারুদ রাখিবার একটী “পাউচ্” ছিল; সেটীকে অতি সন্তর্পণে রক্ষা করিয়া সাঁতার দিয়া আসিয়াছিলাম, তাই বারুদ নষ্ট হইতে পায় নাই। তাহা ছাড়া ছট্রায় পূর্ণ একটা থলিও ছিল। সর্ব্বশেষে, তরবারিখানির পালা। সম্রাট্ দেখিতে ইচ্ছা প্রকাশ করায়, আমি উহা নিষ্কাশিত
পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৩৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।
৩৩
৩