বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।
৩৭

দেখিয়া প্রজাবৃন্দের যে মহোল্লাস সে দিন দেখিলাম, তাহা দেখিবার ও উপভোগ করিবার বিষয়ই বটে!

 এইরূপে আমার মুক্তির পথ ক্রমে ক্রমে পরিষ্কৃত হইয়া আসিতে লাগিল। প্রধান মন্ত্রী আমার উপর বড় সদয় ছিলেন; কিন্তু জানি না কেন, কোষাধ্যক্ষ মহাশয় আমার প্রতি বড়ই বিরূপ ছিলেন। প্রধান মন্ত্রীর মুখে শুনিয়াছি, সভাস্থলে যতবার আমায় ছাড়িয়া দিবার কথা উঠিত, কোষাধ্যক্ষ ততবারই ঘোরতর আপত্তি তুলিতেন। অবশেষে আমি যে প্রকৃত পক্ষে রাজ্যের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী, এ বিষয়ে যখন কাহারও কোনও সন্দেহ রহিল না, তখন একদিন সভায় স্থির হইয়া গেল, আমাকে যথারীতি একটা সন্ধির সর্ত্তে আবদ্ধ করিয়া, মুক্তি দেওয়া হইবে। আমার প্রিয়বন্ধু প্রধান মন্ত্রীমহাশয় আসিয়া আমাকে এই আনন্দের সংবাদ দিয়া গেলেন। কোষাধ্যক্ষ মহাশয় চেষ্টা করিয়া সম্রাটের নিকট অনুমতি লইলেন যে, সন্ধির সর্ত্তগুলি তিনি লিখিবেন। অতএব বলা বাহুল্য, কতকগুলি সর্ত্ত আমার পক্ষে নিতান্তই অমর্য্যাদাকর হইল। পাঠকের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য সর্ত্তগুলির নমুনা দিলাম:—

 (১) সম্রাটের অনুমতি ব্যতীত, আমি (এখানে বলিয়া রাখি, সে দেশের লোকে আমাকে ‘মানব-পর্ব্বত’ বলিয়া জানিত) রাজ্যত্যাগ