বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।
৩৯

 সর্ত্ত গুলির মধ্যে একটী আমার বিশেষ বিস্ময় উৎপন্ন করিয়াছিল। ১৭২৮ ব্যক্তির খোরাকে আমার দিন চলিবে, এ হিসাব সম্রাট্ কোথা হইতে পাইলেন? অনুসন্ধানে অবগত হইলাম, সম্রাটের বিজ্ঞ পরামর্শদাতৃগণ আমার দেহের উচ্চতা এবং আমার ও তদ্দেশবাসীর দেহের পরিমাণ লইয়া, বিজ্ঞানানুযায়ী প্রথায় তুলনা ও গণনা করিয়া, উক্ত হিসাব ধার্য্য করিয়া দিয়াছেন। ইহা হইতে বুঝিতে পারা যায়, সে দেশের বৈজ্ঞানিকগণের বুদ্ধির গভীরতা কত বেশী!

 মুক্তি পাইয়াই আমার প্রথম ইচ্ছা হইল, নগরটা কিরূপ দেখিয়া বেড়াই। সন্ধির সর্ত্ত অনুসারে সম্রাটের অনুমতি লইতে হইল। আমি মানুষ-পর্ব্বত, নগর দেখিতে বাহির হইব—এই সংবাদ রাষ্ট্র হইবামাত্র, সকলেই রাস্তা ছাড়িয়া গৃহের মধ্যে প্রবেশ করিল। আমি কোট্‌টি খুলিয়া রাখিয়া বাহির হইলাম। কারণ, যখন বাড়ীর ছাদ্‌ ডিঙ্গাইয়া বেড়াইতে হইবে, তখন কোট পরা থাকিলে, হয় ত কত বাড়ীর ছাদ কোটের কোণের ধাক্কা লাগিয়া ভাঙ্গিয়া যাইতে পারে! সৌভাগ্যের কথা যে, এমন একটাও দুর্ঘটনা ঘটে নাই। আমি চারিদিক দেখিয়া সন্তুষ্ট হইয়া গৃহে ফিরিলাম।