বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নবম পরিচ্ছেদ।

পাঠকের স্মরণ আছে, আমার মুক্তির সন্ধিপত্রের একটা সর্ত্ত অনুসারে লিলিপুট্‌ রাজ্যকে ব্লেফুস্‌কু রাজ্যের অধিপতির আক্রমণ হইতে রক্ষা করিতে হইবে। কিন্তু যুদ্ধের কারণ ইত্যাদি সম্বন্ধে তখনও পর্য্যন্ত আমি কিছু মাত্র জানিতাম না।

 আমার মুক্তি পাইবার প্রায় ১৪।১৫ দিন পরে, একদিন প্রাতঃকালে প্রধান মন্ত্রী মহাশয় সহসা আমার আবাসস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন; এবং যুদ্ধের কারণ ইত্যাদি সমস্ত ব্যাপার আমায় বুঝাইয়া বলিলেন। আমি দাঁড়াইয়া থাকিলে, তাঁহার বলার অসুবিধা হইবে ভাবিয়া বলিলাম, “আমি শুইয়া পড়ি, আমার কাণের কাছে বলুন!” তিনি বলিলেন, “না, তাহা অপেক্ষা আপনি আমায় হাতে করিয়া তুলিয়া ধরুন।” আমি তাহাই করিলাম। তিনি বলিতে লাগিলেন:—

 “দেখুন, আমাদের—দেশের শত্রু ও বাহিরের শত্রু দুই-ই আছে। প্রথমে আপনাকে দেশের শত্রুদের কথা বলি। আমাদের দেশে দুই দল লোক আছে, একদল উঁচুগোড়ালি জুতা পরে, তাহাদের নাম ‘ট্র্যামেক্‌স্যান’; আর একদল নীচুগোড়ালি জুতা পরে, তাহাদের নাম ‘স্যামেকস্যান্।’ প্রথম দলের লোকেরা আইনের বশীভূত থাকিয়া রাজ্যশাসন কার্য্যে সম্রাট্‌কে সাহায্য করিতে সর্ব্বদাই উৎসুক; কিন্তু সম্রাট্‌ কেবলমাত্র দ্বিতীয় দল হইতে মন্ত্রী ও কর্ম্মচারী নিযুক্ত করেন।