বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।
৪১

এই লইয়া দুই দলে এমন বিষম বিদ্বেষ, যে তাহারা পরস্পরের সহিত পানাহার করে না, এমন কি কথাও কহে না।

 রাজ্যের এই এক মহা বিপদ। তার উপর ব্লেফুস্‌কু রাজ্যের অধিপতি আমাদের লিলিপুট্‌ সাম্রাজ্য আক্রমণ করিবেন, তাহার উদ্যোগ করিতেছেন। সে যুদ্ধের ইতিহাস বলি শুনুন।

 সৃষ্টির প্রারম্ভ অবধি লোকে যখন ডিম খায়, তখন মোটা দিক্‌টাই ভাঙ্গে—ইহাই চিরন্তন প্রথা। কিন্তু আমাদের বর্ত্তমান সম্রাটের পিতামহ যখন বালক ছিলেন, তখন এক দিন ডিম খাইবার জন্য মোটা দিকটা কাটিতে গিয়া, হাতের একটা আঙ্গুল কাটিয়া ফেলেন। সেই ঘটনার পরেই, তাঁহার পিতা কঠোর শাস্তির ভয় দেখাইয়া রাজ্যমধ্যে আদেশ প্রচার করিলেন যে, ভবিষ্যতে আর কেহ ডিমের মোটা দিক ভাঙ্গিতে পাইবে না, সকলকেই সরু দিকটা ভাঙ্গিতে হইবে। এই আইনে প্রজাবৃন্দ বড়ই অসন্তুষ্ট হইল। তদবধি এই আইন লইয়াই রাজ্যমধ্যে ছয় বার ঘোর বিদ্রোহানল জ্বলিয়া উঠিয়াছে। এক বিদ্রোহে একজন সম্রাট্ মারা পড়িয়াছেন, আর এক বিদ্রোহে একজন সম্রাট্ সিংহাসন-চ্যুত হইয়াছেন! বিদ্রোহী দল ব্লেফুস্কু-সম্রাটের নিকট হইতে সবিশেষ সাহায্য পায়; তাহাতেই তাহাদের এরূপ স্পর্দ্ধা। কত বিদ্রোহী যে তাঁহার রাজ্যে পলায়ন করিয়া প্রাণ বাঁচাইয়াছে, তাহার ইয়ত্তা নাই; তথাপি, ধরা পড়িয়া প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছে, এরূপ বিদ্রোহীর সংখ্যাও একাল পর্য্যন্ত এগার হাজারের কম হইবে না! যাহা হউক,