ধরিয়া, অবলীলাক্রমে জাহাজ পঞ্চাশখানি টানিয়া লিলিপুট্ দ্বীপের দিকে অগ্রসর হইলাম।
এতক্ষণ পর্যন্ত ব্লেফুস্কুবাসিগণ আমার অভিপ্রায় না বুঝিতে পারিয়াও, আমাকে শত্রুজ্ঞানে বাণবিদ্ধ করিতেছিল। এক্ষণে তাদের যুদ্ধের সার অবলম্বন—জাহাজ পঞ্চাশখানিকে আমার পিছনে পিছনে চলিয়া আসিতে দেখিয়া, তাহাদের যে ভীষণ ক্রন্দনের রোল উঠিল, সেরূপ আমি জীবনে আর কখনও শুনি নাই।
কিছু দূর চলিয়া আসিয়া যখন বুঝিলাম, শত্রুর তীর আর আমার গায়ে লাগিবে না, তখন আমি দাঁড়াইয়া একে একে তীরগুলি দেহ হইতে তুলিয়া ফেলিলাম এবং লিলিপুটবাসীরা যে মলম মাখাইয়া দিত, সেই মলম মাখিয়া জ্বালা নিবারণ করিলাম। তারপর, প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা করিয়া, জোয়ারের বেগ একটু কমিলে, শত্রুর জাহাজগুলি লইয়া লিলিপুটের বন্দরে পৌছিলাম।
অর্দ্ধচন্দ্রাকারে পঞ্চাশখানি জাহাজ আসিতেছে, অথচ (আমি বুক পর্য্যন্ত জলে ডুবাইয়া আছি বলিয়া) আমায় দেখা যাইতেছিল না, ইহাতে সম্রাট্ ও মন্ত্রীবর্গ বড়ই ভীত হইয়া ভাবিতে লাগিলেন, আমি হয় ত ডুবিয়াই গিয়াছি ও শত্রু-তরী রণোৎসাহে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অগ্রসর হইতেছে! কিন্তু আমায় দেখিতে পাইয়াই, তাঁহাদের সকল সন্দেহ ও ভয়ের অবসান হইল। আমিও নিকটবর্ত্তী হইয়া, “লিলিপুটের মহামহিম সম্রাটের জয় হউক” বলিয়া অভিবাদন করিলাম!