না! আমায় অন্ধ করিয়া প্রাণে বাঁচাইয়া রাখার উদ্দেশ্য এই শুনিলাম যে, চক্ষু গেলে আমি লিলিপুট্রাজ্যের কোনও রূপ অনিষ্ট করিতে পারিব না, অথচ রাজ্যের যখন যেরূপ প্রয়োজন হইবে, আমায় সেইরূপে খাটাইয়া লইতে পারা যাইবে। এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একজন বিজ্ঞ মন্ত্রী এই আপত্তি করিয়াছিলেন যে, প্রায়ই দেখিতে পাওয়া যায়, অন্ধ ব্যক্তিরা খায় অধিক ও তাহাদের শরীরে অতি শীঘ্র মাংস লাগে! এই রূপ সারবান্ যুক্তি সত্ত্বেও স্থির হইয়া গিয়াছে যে, আহার কমাইয়া দিয়া ক্রমে ক্রমে আমাকে মারিয়া ফেলা হউক এবং সঙ্গে সঙ্গে আমার চক্ষু নষ্ট করিয়া দেওয়া হউক! প্রস্তাব সমর্থন করিবার জন্য আমার শত্রুপক্ষ দেখাইল, আমাকে আর অধিক দিন রাখিলে রাজ্যে অর্থকষ্ট ও দুর্ভিক্ষ হইবে। তাহাতে আমার মিত্রপক্ষ যখন বলিলেন, এত প্রকাণ্ড একটা দেহ পচিলে রাজ্যে মহামারী উপস্থিত হইবে; তখন সে যুক্তি এই কথায় খণ্ডন করা হইল যে, আমি মরিবার পূর্ব্বে খুবই শীর্ণ হইয়া যাইব, ও মৃত্যুর পরেই আমার দেহ খণ্ড খণ্ড করিয়া বহু দূরে লইয়া পুতিয়া ফেলা হইবে। সকলের ইচ্ছাক্রমে সম্রাট্ এই দুইটি প্রস্তাবের অনুমোদন করিয়াছেন।
আমি হিতকারী বন্ধু মন্ত্রীমহাশয়কে বিশেষ কিছুই প্রশ্ন করিলাম না; কেবল জানিতে ঔৎসুক্য হইল, আমার অনিচ্ছায় কিরূপে তাহারা আমার চক্ষু উপ্ড়াইয়া ফেলিবে? তাহাতে শুনিলাম, আমি যখন নিদ্রা যাইব, তখন বিষাক্ত বাণ দ্বারা উপরি উপরি আমার চক্ষু বিদ্ধ করা হইবে।