গেলাম। সেখানে আমার বাবা, আমার কাকা এবং অন্যান্য কয়েকজন আত্মীয় আমাকে ৪০ পাউণ্ড জুটাইয়া দিলেন; এবং ভরসা দিলেন, প্রতি বৎসর ৩০ পাউণ্ড করিয়া দিবেন। এই টাকার উপর নির্ভর করিয়া আমি পদার্থবিদ্যা শিখিবার জন্য লীডেন সহরে গেলাম। সেখানে দুই বৎসর সাত মাস এই বিদ্যা অধ্যয়ন করি। লীডেন হইতে ফিরিয়া আসিবার পরেই মিষ্টার বেট্সের সুপারিসে “সোয়ালো” নামক জাহাজে আমার ডাক্তারির চাকুরী জুটিল। জাহাজের কাপ্তেন এব্রাহাম প্যানেলের নিকট আমি সাড়ে তিন বৎসর কাজ করিলাম। ফিরিয়া আসিয়া আমি মনে করিলাম, লণ্ডন সহরেই পসারের চেষ্টা করিব। ইহাতে আমার ভূতপূর্ব্ব মনিব বেট্স্ আমাকে যথেষ্ট উৎসাহ দিতে লাগিলেন এবং অনেক রোগীর নিকট আমাকে সুপারিস করিয়া দিলেন। আমি সহরের মধ্যে ছোট খাট বাসা করিলাম এবং বিবাহও করিলাম। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্যক্রমে দুই বৎসর পরেই বেট্স্ মারা পড়িলেন। আমার অন্য কেহ সহায় বা হিতার্থী বন্ধু ছিল না, কাজেই আমার পসার বাড়িতে পাইল না। অগত্যা স্ত্রী এবং কয়েকজন বন্ধুর সহিত পরামর্শ করিয়া স্থির করিলাম, আবার জাহাজে চাকুরী করিব। পর পর দুইখানি জাহাজে চাকুরী মিলিল। ছয় বৎসর ধরিয়া অনেকবার এসিয়া ও
পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৬
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।