বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।
৫১

পরে তাহারা এই সংবাদ লইয়া আসিল যে, সম্রাট্ স্বয়ং মহিষী ও সভাসদগণসহ আমার অভ্যর্থনা করিতে আসিতেছেন। এই শুনিয়া আমি একশত গজ অগ্রসর হইলাম। আমায় দেখিয়া সম্রাট্ বা সভাসদ্‌গণের কেহ, এমন কি, মহিষী পর্য্যন্ত বিন্দুমাত্র ভীত বা বিচলিত হইলেন না, ইহা দেখিয়া আমি কিঞ্চিৎ বিস্মিত হইলাম। আমি মাটীতে শুইয়া সম্রাটের ও মহিষীর কর-চুম্বন করিলাম; এবং যথেষ্ট বিনয়ের সহিত বলিলাম, “আমার প্রভুর অনুমতি লইয়া, আপনার সেবা করিয়া ধন্য হইবার জন্যই আমি এ দেশে আসিয়াছি।” তাঁহাদিগকে জানিতে দিলাম না যে, আমি সম্রাটের বিরাগভাজন হইয়াছি, বা, সে দেশে আর ফিরিয়া না যাইতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করিয়াছি।

 সম্রাট আদর-যত্ন করিতে ত্রুটি করিলেন না। কিন্তু আমার ভাগ্যবশে সেখানে বাসস্থান মিলিল না, কম্বল জড়াইয়া যত্র-তত্র ভূমি-শয্যায় রাত্রি কাটাইতে হইল।

 একদিন সমুদ্রতীরে বেড়াইতেছি, এমন সময় দেখিলাম, দূরে সমুদ্রের উপর যেন একখান নৌকা, উল্টান অবস্থায় ভাসিতেছে। জিনিসটা কি, ভাল করিয়া দেখার ঔৎসুক্য জন্মিল। জুতা মোজা খুলিয়া ফেলিয়া, দুই তিন শত গজ জল ভাঙ্গিয়া হাঁটিয়া গিয়া দেখি, বাস্তবিক সেখানা নৌকাই বটে। বোধ হইল, কোনও জাহাজ হইতে ঝড়ের বেগে সমুদ্রে পড়িয়া গিয়া থাকিবে। এই দেখিয়া আমার মনে যে কত কি আশার ছবি উঠিতে লাগিল, তাহা আর কি বলিব। আমি তৎক্ষণাৎ