সম্রাটের নিকট কুড়ি খানি বৃহৎ জাহাজ ও তিন সহস্র নাবিকের সাহায্য চাহিলাম। তারপর সকলের সাহায্যে, প্রাণপণ করিয়া নৌকাখানিকে তীরের নিকটে আনিয়া উল্টাইয়া লইলাম। তখন দেখিলাম, নৌকার বিশেষ কোনও ক্ষতি হয় নাই।
এই অপরূপ যান দেখিবার জন্য লোকের কি ভিড়, ও কি আগ্রহ! আমি দিবারাত্রি পরিশ্রম করিয়া, নৌকাখানাকে সমুদ্রের উপযোগী করিবার জন্য, তাহার যে কিছু সরঞ্জামের প্রয়োজন, সকলই প্রস্তুত করিলাম। দাঁড়, হাল, মাস্তুল, পাল, আচ্ছাদন, নঙ্গর, রশারশি— প্রভৃতির কিছুই বাকী রহিল না। এমন কি, মাস্তলের উপর উড়াইবার জন্য নিশানটি পর্য্যন্ত ভুলিলাম না। সম্রাট্কে বুঝাইয়া বলিলাম, আমার মুক্তির জন্যই ভগবান্ এই নৌকাখানি তাঁহার রাজ্যে পাঠাইয়া দিয়াছেন। তিনি আমাকে বিশেষ দয়া করিয়া রাজ্যের যে কোনও প্রজার নিকট হইতে, যে কোনও সাহায্যের প্রয়োজন, তাহা লইতে অনুমতি দিলেন। রাজাদেশেও বটে এবং আমার প্রতি স্বাভাবিক অনুরাগবশেও বটে, সকলেই আমাকে স্বেচ্ছায় ও মুক্তহস্তে সাহায্য প্রদান করিতে লাগিল। এরূপ ভাবে কার্য্য করিয়াও আমার নৌকাখানিকে কার্য্যের উপযোগী করিয়া লইতে প্রায় এক মাস কাল লাগিল।
উদ্যোগ সম্পূর্ণ হইলে, আমি যথারীতি অভিবাদন ও কর-চুম্বন করিয়া সম্রাটের নিকট বিদায় লইলাম। সম্রাট্ বিদায়-চিহ্ন স্বরূপ আমাকে তাঁহার দেশের ২০০ স্বর্ণ মুদ্রায় পূর্ণ এরূপ পঞ্চাশটি মণিব্যাগ উপহার