হইল। জাহাজ খানিতে ইংলণ্ডের পতাকা উড়িতেছে দেখিয়া, আমার আনন্দ যেন দ্বিগুণ বাড়িয়া উঠিল।
গরু ও মেষগুলিকে কোটের পকেটে লইয়া এবং খাদ্য-সামগ্রীগুলি জাহাজে তুলাইবার বন্দোবস্ত করিয়া, আমি জাহাজে উঠিয়া আসিলাম। সেখানি বাণিজ্যের জাহাজ; জাপান হইতে ফিরিতেছে; কাপ্তেন যেমন কার্য্যপটু, তেমনি বিনয়ী ও মিষ্টস্বভাব। জাহাজে সর্ব্বশুদ্ধ প্রায় পঞ্চাশজন লোক ছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে তাঁহাদের মধ্যে আমার একজন পূর্ব্বপরিচিত বন্ধুও ছিলেন; তিনি কাপ্তেনের নিকট আমার চরিত্রের প্রশংসা করিলেন।
কাপ্তেন সদয়ভাবে অভ্যর্থনা করিয়া, আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি কোথা হইতে আসিলাম ও কোথায় যাইব? উত্তর শুনিয়া সকলেই ভাবিলেন, আমার মাথা খারাপ হইয়া গিয়াছে, আমি উন্মত্তের ন্যায় প্রলাপ বকিতেছি! তাঁহাদের মনের ভাব বুঝিতে পারিয়া, আমি পকেট হইতে গরু ও ভেড়া বাহির করিয়া দেখাইলাম। তখন তাঁহাদের অবিশ্বাস দূর হইল ও বিস্ময় জন্মিল। ব্লেফুস্কুরাজের পূর্ণ-দেহের ছবি, এবং তাঁহার প্রদত্ত মুদ্রাগুলি, ও সেই দেশ হইতে নূতন নূতন আর যাহা কিছু আনিয়াছিলাম, একে একে সকলই কাপ্তেনকে দেখাইলাম; অধিকন্তু ৫০টী মণিব্যাগ হইতে ২টী তাঁহাকে উপহার দিলাম; এবং ইংলণ্ডে পৌঁছিলে, এক একটি গরু ও মেষ উপহার দিব বলিয়া অঙ্গীকার করিলাম।