করিয়া পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি করিতে চাহি না। একবার ভীষণ ঝড়ে আহত হইয়া প্রকৃত পথ হইতে বহুদূরে গিয়া পড়িলাম। অপরিমিত পরিশ্রম করিয়া ও উত্তম খাদ্য খাইতে না পাইয়া, নাবিকদের মধ্যে ১২ জন মরিয়াই গেল। যাহারা মরিল না তাহারা জীবন্মৃত হইয়া বাঁচিয়া রহিল। এই অবস্থায় ৫ই নভেম্বর তারিখে আমাদের জাহাজখানা ভীষণ ঝড়ের বেগে একটা পাহাড়ে ধাক্কা লাগিয়া ফাঁসিয়া গেল। আমি আর ৫ জন নাবিক কোনও গতিকে একখানি নৌকা ভাসাইয়া, ভগ্ন জাহাজ ও বিপজ্জনক পাহাড়ের হাত হইতে রক্ষা পাইলাম। আন্দাজ ৯ মাইল দাঁড় বাহিয়া যাইবার পর আমাদের শরীর অবসন্ন হইয়া আসিল; আর দাঁড় বাহিতে পারিলাম না। ভগবানের মনে যাহা আছে তাহাই হউক, এই ভাবিয়া আমরা দাঁড় ছাড়িয়া দিলাম।
প্রায় আধ ঘণ্টা এই ভাবে ভাসিবার পর হঠাৎ একটা ঝাপ্টা আসিয়া আমাদের নৌকাখানি উল্টাইয়া দিয়া গেল। নৌকায় যে আর পাঁচ জন ছিল, তাহাদের কি দশা হইল, আমি বলিতে পারি না, কিন্তু আমার মনে হয় তাহারা সকলেই মারা পড়িল। এদিকে আমি প্রবল বাতাস আর প্রবল তরঙ্গের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিয়া সাঁতার দিতে লাগিলাম। কতবার পা ফেলিয়া দেখিলাম, তলা পাই কি না; কিন্তু কোন বারই তলা পাইলাম