পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ কথা t/0a দেবতা, তোমাদের স্তব যদি বা পায় সে, টেকে না বেশিদিন। বলছিলাম, আমি বড়ো বড়ো দেশের স্বয়ম্ববরসভার মালা উপেক্ষা করে এসেছি, আর তুমি আমাকে উপেক্ষা করবে?" গায়ে পড়ে এই বানানো ঝগড়া এমনি ছেলেমানষি যে, একদিন হেসে উঠেছি আপন উন্মায়। এ দিকে বিজ্ঞানীর যুক্তি কাজ করছে ভিতরে ভিতরে। মনকে জানাই, এটাও একটা মস্ত কথা, আমার যাতায়াতের পথের ধারে ও বসে থাকে— একান্ত নিভৃতই যদি ওর প্রাথনীয় হত, তা হলে ঠাঁই বদল করত। প্রথম প্রথম আমি ওকে আড়ে আড়ে দেখেছি, যেন দেখি নি এই ভান করে। ইদানীং মাঝে মাঝে পস্ট চোখোচোখি হয়েছে—যতদরে আমার বিশ্বাস, সেটাকে চার চোখের অপঘাত ব’লে ওর মনে হয় নি। এর চেয়েও বিশেষ একটা পরীক্ষা হয়ে গেছে। এর আগে দিনের বেলায় মাটিপাথরের কাজ সাঙ্গ করে দিনের শেষে ঐ পঞ্চবটীর পথ দিয়ে একবারমাত্র যেতেম বাসার দিকে। সম্প্রতি যাতায়াতের পনরাবৃত্তি হতে আরম্ভ হয়েছে। এই ঘটনাটা যে জিয়লজি-সম্পকিত নয়, সে কথা বোঝবার মতো বয়স হয়েছে অচিরার। আমারও সাহস ক্রমশ বেড়ে চলল, যখন দেখলাম এই সপেন্ট ভাবের আভাসেও তরুণীকে পথানচ্যুত করতে পারল না। এক-একদিন হঠাৎ পিছন ফিরে দেখেছি অচিরা আমার তিরোগমনের দিকে চেয়ে আছে, আমি ফিরতেই তাড়াতাড়ি ডায়ারির দিকে চোখ নামিয়ে নিয়েছে। সন্দেহ হল ওর ডায়ারি লেখার ধারায় আগেকার মতো বেগ নেই। আমার বিজ্ঞানী বধিতে মনোরহস্যের আলোচনা জেগে উঠল। বুঝেছি সে কোনোএক পরে ষের জন্যে তপস্যার ব্রত নিয়েছে, তার নাম ভবতোষ, সে ছাপরায় অ্যাসিস্টেণ্ট ম্যাজেস্টেটি করছে বিলেত থেকে ফিরে এসেই। তার পবে দেশে থাকতে এদের দজেনের প্রণয় ছিল গভীর, কাজ নেবার মুখেই একটা আকস্মিক বিপ্লব ঘটেছে। ব্যাপারটা কী খবর নিতে হবে। শক্ত হল না, কেননা পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কেমব্রিজের সতীথ আছে বঙ্কিম। ডাকে চিঠি লিখে পাঠালম, বেহার সিভিল সাভিসে আছে ভবতোষ । কন্যাকতাদের মহলে জনশ্রুতি শোনা যায় লোকটি সৎপাত্র। আমার কোনো বন্ধন আমাকে তাঁর মেয়ের জন্যে ঐ লোকটিকে প্রাজাপতিক ফাঁদে ফেলতে সাহায্য করতে অনুরোধ করেছেন। রাস্তা পরিকার আছে কি না, আদ্যন্ত খবর নিয়ে তুমি যদি আমাকে জানাও কৃতজ্ঞ হব । লোকটির মতিগতি কী রকম তাও জানতে চাই।' উত্তর এল, রাস্তা বন্ধ। আর, মতিগতি সম্ববন্ধে এখনও যদি কৌতুহল বাকি থাকে তবে শোনো -- ‘কলেজে পড়বার সময় আমি ছাত্র ছিলম ডাক্তার অনিলকুমার সরকারের— অ্যালফাবেটের অনেকগুলি অক্ষর -জোড়া তাঁর নাম। যেমন তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য, তেমনি ছেলেমানষের মতো তাঁর সরলতা। একমাত্র সংসারের আলো তাঁর নাতনিটিকে যদি দেখো, তা হলে মনে হবে সাধনায় খুশি হয়ে সরস্বতী কেবল যে আবির্ভূত হয়েছেন তাঁর বধিলোকে তা নয়, রুপ নিয়ে এসেছেন তাঁর কোলে। ঐ শয়তান ভবতোষ ঢকেল ওঁর সবগুলোকে। বধি তার তীক্ষ, বচন তার অনগ’ল। প্রথমে ভুললেন অধ্যাপক, তার পরে ভুলল তাঁর নাতনি। ওদের অসহ্য অন্তরঙ্গতা দেখে আমাদের হাত নিসপিস করত। কিছু বলবার পথ ছিল না, বিবাহসম্বন্ধ পাকাপাকি