পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নষ্টনীড় 3tచి তালের উপর যত-খুশি লেখো, আমি তাতে কোনো আপত্তি করি নে— আমি কারও স্বাধীনতায় হাত দিতে চাই নে–কিন্তু আমার স্বাধীনতায় কেন হস্তক্ষেপ। সেগুলো আমাকে না পড়িয়ে ছাড়বেন না, তোমার বোঠানের এ কী অত্যাচার।” অমল হাসিয়া কহিল, “তাই তো বোঠান, আমার লেখাগুলো নিয়ে তুমি যে দাদাকে জলম করবার উপায় বের করবে, এমন জানলে আমি লিখতুম না।” সাহিত্যরসে বিমুখ ভূপতির কাছে আনিয়া তাহার অত্যন্ত দরদের লেখাগুলিকে অপদস্থ করাতে অমল মনে মনে চারর উপর রাগ করিল এবং চার তৎক্ষণাৎ তাহা বঝিতে পারিয়া বেদনা পাইল। কথাটাকে অন্য দিকে লইয়া যাইবার জন্য ভূপতিকে কহিল, "তোমার ভাইটির একটি বিয়ে দিয়ে দাও দেখি, তা হলে আর লেখার উপদ্রব সহ্য করতে হবে না।" ভূপতি কহিল, “এখনকার ছেলেরা আমাদের মতো নিবোধ নয়। তাদের যত কবিত্ব লেখায়, কাজের বেলায় সেয়ানা। কই, তোমার দেওরকে তো বিয়ে করতে রাজি করাতে পারলে না।” চার চলিয়া গেলে ভূপতি অমলকে কহিল, “অমল, আমাকে এই কাগজের হাঙ্গামে থাকতে হয়, চার বেচারা বড়ো একলা পড়েছে। কোনো কাজকর্ম নেই, মাঝে মাঝে আমার এই লেখবার ঘরে উকি মেরে চলে যায়। কী করব বলো। তুমি, অমল, ওকে একটা পড়াশুনোয় নিযুক্ত রাখতে পারলে ভালো হয়। মাঝে মাঝে চারকে যদি ইংরাজি কাব্য থেকে তজমা করে শোনাও তা হলে ওর উপকারও হয়, ভালোও লাগে । চারুর সাহিত্যে বেশ রচি আছে।" অমল কহিল, "তা আছে। বোঠান যদি আরও একট পড়াশুনো করেন তা হলে আমার বিশ্বাস উনি নিজে বেশ ভালো লিখতে পারবেন।” ভূপতি হাসিয়া কহিল, “ততটা আশা করি নে, কিন্তু চার বাংলা লেখার ভালোমন্দ আমার চেয়ে ঢের বুঝতে পারে।” অমল । ওঁর কলপনাশক্তি বেশ আছে, সত্ৰীলোকের মধ্যে এমন দেখা যায় না। ভূপতি। পরেষের মধ্যেও কম দেখা যায়, তার সাক্ষী আমি। আচ্ছা, তুমি তোমার বউঠাকরনকে যদি গড়ে তুলতে পার আমি তোমাকে পারিতোষিক দেব। অমল। কণী দেবে শুনি। ভূপতি। তোমার বউঠাকরনের জড়ি একটি খুজে-পেতে এনে দেব। অমল। আবার তাকে নিয়ে পড়তে হবে! চিরজীবন কি গড়ে তুলতেই কাটাব। দটি ভাই আজকালকার ছেলে, কোনো কথা তাহাদের মুখে বাধে না। চতুর্থ পরিচ্ছেদ পাঠকসমাজে প্রতিপত্তি লাভ করিয়া অমল এখন মাথা তুলিয়া উঠিয়াছে। আগে সে স্কুলের ছাত্রটির মতো থাকিত, এখন সে যেন সমাজের গণ্যমান্য মানুষের মতো হইয়া উঠিয়াছে। মাঝে মাঝে সভায় সাহিত্যপ্রবন্ধ পাঠ করে—সম্পাদক ও সম্পাদকের দত তাহার ঘরে আসিয়া বসিয়া থাকে, তাহাকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া খাওয়ায়, নানা সভার সভ্য ও সভাপতি হইবার জন্য তাহার নিকট অনুরোধ আসে, ভূপতির ঘরে দাসদাসী