পাতা:গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নষ্টনীড় 896; সঙ্গের প্রতি অসহিষ্ণতা প্রকাশ করা তাহাদের একটা দস্তুর ছিল ; আমল সেটা হঠাৎ কী বলিয়া ছাড়ে। অবশেষে মন্দাকিনী নিকটবতিনী হইলে অমল যেন কল বাটপাড়ির লক্ষণ কিছু দেখলে!” মন্দা। যখন চাইলেই পাও, ভাই, তখন চুরি করবার দরকার! অমল। চেয়ে পাওয়ার চেয়ে তাতে সুখ বেশি। মন্দা। তোমরা কী পড়ছিলে পড়ো-না, ভাই। থামলে কেন । পড়া শুনতে আমার বেশ লাগে । ইতিপবে পাঠানরোগের জন্য খ্যাতি অজন করিতে মন্দার কিছুমাত্র চেষ্টা দেখা যায় নাই, কিন্তু ‘কালোহি বলবত্তরঃ। চারার ইচ্ছা নহে, অরসিকা মন্দার কাছে অমল পড়ে, অমলের ইচ্ছা মন্দাও তাহার লেখা শোনে । চার। অমল কমলাকাতের দপ্তরের সমালোচনা লিখে এনেছে, সে কি তোমার— মন্দা। হলেমই বা মলখা, তব শনলে কি একেবারেই বঝেতে পারি নে। তখন আর-একদিনের কথা অমলের মনে পড়িল। চারতে মন্দাতে বিন্তি খেলিতেছে, সে তাহার লেখা হাতে করিয়া খেলাসভায় প্রবেশ করিল। চারকে শনাইবার জন্য সে অধীর, খেলা ভাঙিতেছে না দেখিয়া সে বিরক্ত। অবশেষে বলিয়া উঠিল, “তোমরা তবে খেলো বউঠান, আমি অখিলবাবকে লেখাটা শুনিয়ে আসি গে।" চার অমলের চাদর চাপিয়া কহিল, "আঃ, বোসো-না, যাও কোথায়।” বলিয়া তাড়াতাড়ি হারিয়া খেলা শেষ করিয়া দিল । মন্দা বলিল, “তোমাদের পড়া আরম্ভ হবে বঝি ? তবে আমি উঠি।” চার ভদ্রতা করিয়া কহিল, “কেন, তুমিও শোনো-না, ভাই ।” মন্দা। না ভাই, আমি তোমাদের ও-সব ছাইপাশ কিছুই বুঝি নে ; আমার কেবল ঘমে পায় – বলিয়া সে অকালে খেলাভঙ্গে উভয়ের প্রতি অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া চলিয়া গেল । সেই মন্দা আজ কমলাকাতের সমালোচনা শনিবার জন্য উৎসকে অমল কহিল, “তা বেশ তো, মন্দা-বউঠান, তুমি শনবে সে তো আমার সৌভাগ্য।" বলিয়া পাত উলটাইয়া আবার গোড়া হইতে পড়িবার উপক্ৰম করিল ; লেখার আরম্ভে সে অনেকটা পরিমাণ রস ছড়াইয়াছিল, সেটুকু বাদ দিয়া পড়িতে তাহার প্রবত্তি হইল না। চার তাড়াতাড়ি বলিল, “ঠাকুরপো, তুমি যে বলেছিলে জাহ্নবী লাইব্রেরি থেকে পরোনো মাসিক পত্র কতকগুলো এনে দেবে।” অমল । সে তো আজ নয় । চার। আজই তো। বেশ! ভুলে গেছ বুঝি ? অমল। ভুলব কেন। তুমি যে বলেছিলে— চার। আচ্ছা বেশ, এনো না। তোমরা পড়ো। আমি যাই, পরেশকে লাইব্রেরিতে পাঠিয়ে দিই গে।—বলিয়া চার উঠিয়া পড়িল। অমল বিপদ আশংকা করিল। মন্দা মনে মনে বঝিল এবং মহাতের মধ্যেই চার্যর প্রতি তাহার মন বিষাক্ত হইয়া উঠিল। চার চলিয়া গেলে অমল যখন উঠিবে কি