পাতা:গল্পগুচ্ছ (প্রথম খণ্ড).djvu/৩০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্তাপুরণ €e দ্বিতীয়ত, তাহার পিতৃ-পিতামহের সময়ের অপেক্ষ এখন জীবিকা অত্যস্ত দুর্লভ এবং দ্বমূল্য হইয়া পড়িয়াছে। অভাব অনেক বাড়িয়া গিয়াছেণ এখন একজন ভদ্রলোকের আত্মসন্ত্রম রক্ষা করিয়া চলিতে পূর্বাপেক্ষা চারগুণ, খরচ পড়ে। অতএব, র্তাহার পিতা যেরূপ নিশ্চিন্তমনে ছুই হস্তে সমস্ত বিলাইয়া ছড়াইয়া গিয়াছেন এখন আর তাহা করিলে চলিবে না, বরঞ্চ সেগুলি কুড়াইয়া বাড়াইয়! আবার ঘরে আনিবার চেষ্টা করা কর্তব্য । কর্তব্যৰুদ্ধি তাহাকে যাহা বলিল তিনি তাহাই করিতে আরম্ভ করিলেন। তিনি একটা প্রিন্সিপল্‌ ধরিয়া চলিতে লাগিলেন। ঘর হইতে যাহা বাহির হইয়াছিল আবার তাহা অল্পে অল্পে ঘরে ফিরিতে লাগিল । পিতার অতি অল্প দানই তিনি বহাল রাখিলেন, এবং যাহা রাখিলেন তাহাও যাহাতে চিরস্থায়ী দানের স্বরূপে গণ্য না হয় এমন উপায় করিলেন । কৃষ্ণগোপাল কাশীতে থাকিয়া পত্ৰযোগে প্রজাদিগের ক্রনান শুনিতে পাইলেন– এমন-কি, কেহ কেহ তাহার নিকটে গিয়াও র্কাদিয়া পড়িল । কৃষ্ণগোপাল বিপিনবিহারীকে পত্র লিথিলেন যে কাজটা গর্হিত হইতেছে । বিপিনবিহারী উত্তরে লিখিলেন যে, পূর্বে যেমন দান করা যাইত তেমনি পাওনা নানা প্রকারের ছিল। তখন জমিদার এবং প্রজা উভয় পক্ষের মধ্যেই দান-প্রতিদান ছিল। সম্প্রতি নূতন নুতন আইন হইয়া স্থায্য খাজনা ছাড়া অঙ্ক পাচ রকম পাওনা একেবারে বন্ধ হইয়াছে এবং কেবলমাত্র খাজনা আদায় করা ছাড়া জমিদারের অন্যান্য গৌরবজনক অধিকারও উঠিয়া গিয়াছে— অতএব এখনকার দিনে যদি আমি আমার ন্যায্য পাওনার দিকে কঠিন দৃষ্টি না রাখি তবে আর থাকে কী । এখন প্রজাও আমাকে অতিরিক্ত কিছু দিবে না, আমিও তাহাকে অতিরিক্ত কিছু দিব না— এখন আমাদের মধ্যে কেবলমাত্র দেনাপাওনার সম্পর্ক। দানখয়রাত করিতে গেলে ফতুর হইতে হইৰে, বিষয়ুরক্ষা এবং কুলসম্রম-রক্ষা করা দুরূহ হইয়া পড়িবে।’ কৃষ্ণগোপাল সময়ের এতাধিক পরিবর্তনে অত্যন্ত চিপ্তিত হইয়া উঠিতেন এবং ভাবিতেন, ‘এখনকার ছেলেরা এখনকার কালের উপযোগী কাজ করিতেছে, আমাদের সে কালের নিয়ম এখন খাটিবে না। আমি দূরে বসিয়া